অভিবাসী ঢল ঠেকাতে সিউটায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন, সীমান্তে কড়াকড়ি
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবে
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।
- তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত।
বাধাটি পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি নোঙর করা ভাসমান বয়া (বুই) বসানো হচ্ছে। দুটি বাধার মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হবে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচল করতে পারে।
- জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
এই ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর ২২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান ইইউ প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেছে।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালির এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত যাতায়াত স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এ ধরনের স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’
- মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭
স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তবেষ্টনী টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা যান।
কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মানবপাচারকারী চক্রকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব চক্র দুর্বল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সিউটা সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো সিউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারা আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। গণহারে প্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না।’
- আরও পুলিশ চায় সিভিল গার্ড
স্পেনের সিভিল গার্ডের ইউনিয়ন (AUGC) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত আরও ২০০ অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, নতুন ভাসমান বাধা ঘুরে সাঁতরে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশ করেছেন, তারা মূল ভূখণ্ড স্পেন বা শেনজেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। সিউটা থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার কর্মসূচি চালু করেছে।
তবে সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির কারণেই সিউটায় অভিবাসীদের ঢল নেমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ বৈধতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকেই স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং আবেদনকালে টানা পাঁচ মাস সেখানে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হবে।
What's Your Reaction?