অযত্ন-অবহেলায় ফুলবাড়ীর শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি

দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন, অবহেলা আর পাঠকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিটি। লাইব্রেরি চত্বর এখন আগাছা, লতাপাতাসহ ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে গেছে চারপাশ। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ দরজায় জাল বিছিয়েছে মাকড়সা। এ জঙ্গলের মাঝে অতীতের সাক্ষী হয়ে আছে শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি।  এক সময় এখানে বইয়ের পাতায় পাতায় জ্ঞানের আলো খুঁজে পেতেন শিক্ষার্থী, পাঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ভুতুড়ে স্থাপনায় রূপ নিয়েছে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর গ্রামের এই শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৬ সালে তৎকালীন জমিদার সুরেশ চন্দ্র রায় ও তার ছেলে ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে সুজাপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দরিদ্র ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বইয়ের চাহিদা পূরণে বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে তোলা হয় এ পাবলিক লাইব্রেরিটি।  বাবার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ছেলে জমিদার ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় লাইব্রেরিটির নাম দেন সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি।

অযত্ন-অবহেলায় ফুলবাড়ীর শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি
দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন, অবহেলা আর পাঠকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিটি। লাইব্রেরি চত্বর এখন আগাছা, লতাপাতাসহ ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে গেছে চারপাশ। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ দরজায় জাল বিছিয়েছে মাকড়সা। এ জঙ্গলের মাঝে অতীতের সাক্ষী হয়ে আছে শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি।  এক সময় এখানে বইয়ের পাতায় পাতায় জ্ঞানের আলো খুঁজে পেতেন শিক্ষার্থী, পাঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় ভুতুড়ে স্থাপনায় রূপ নিয়েছে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর গ্রামের এই শতবর্ষী সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৬ সালে তৎকালীন জমিদার সুরেশ চন্দ্র রায় ও তার ছেলে ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে সুজাপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দরিদ্র ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বইয়ের চাহিদা পূরণে বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে তোলা হয় এ পাবলিক লাইব্রেরিটি।  বাবার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ছেলে জমিদার ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় লাইব্রেরিটির নাম দেন সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। এক সময় এই পাঠাগারে ছিল সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ের বই। পাঠকের পদচারণায় মুখর থাকত লাইব্রেরি। তবে সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যায় শিক্ষার্থী ও পাঠকের জ্ঞানচর্চার সেই প্রাণচাঞ্চল্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অগ্নিসংযোগে লাইব্রেরির অসংখ্য মূল্যবান বই ও আসবাব পুড়ে যায়। স্বাধীনতার পর আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি পাঠাগারটি। তবে ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান লাইব্রেরি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। পাশেই ১২ শতাংশ জমিতে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১২ সালে পুরোনো ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি কেনা হয় এক হাজার ১২০টি বই।  ২০১৫ সালে দুই লাখ টাকা অনুদানে নির্মাণ হয় অতিরিক্ত আরও একটি কক্ষ। ২০১৭ সালে সেখানে চালু করা হয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এলাকার শিক্ষিত যুবক-তরুণীরা সেখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। পাঠকদের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে ওঠে লাইব্রেরি। গঠন হয় পরিচালনা কমিটি। কিন্তু অর্থাভাবে লাইব্রেরিয়ানের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণের খরচসব মিলিয়ে বেশি দিন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর করোনা মহামারির মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় লাইব্রেরির সব কার্যক্রম। ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৬টি কম্পিউটারও। সরেজমিন লাইব্রেরি চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন ভবনের সামনেও ঝোপঝাড়। তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই চোখ আটকে যায় মাকড়সার জালে। এক কোণে একটি বুকশেলফে এখনো থরে থরে সাজানো কিছু বই। চারদিকে ধুলোর আস্তর পড়েছে। সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির পাঠক অশীতিপর প্রধান শিক্ষক মকলেছার রহমান চৌধুরী, নূরুল ইসলাম, আব্দুর. রাজ্জাক, অশেষ রঞ্জন দাস, শিক্ষক সাক্ষী গোপাল, গোলাম কবীর, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ ব্যক্তিরা বলেন, লতাপাতায় ঢাকা এ ভবন শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি ফুলবাড়ীর ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। যথাযথ উদ্যোগ আর সামান্য পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি আবারও হতে পারে নতুন প্রজন্মের জ্ঞানের আশ্রয়স্থল। কবি, সাহিত্যিক ও কলাম লেখক গণমাধ্যমকর্মী সহকারী অধ্যাপক মো. আজিজুল হক সরকার বলেন, জ্ঞানার্জনের জন্য বইপড়ার বিকল্প নেই। সুরেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিটি পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন অথবা পৌরসভা দায়িত্ব নিলে এটি আবার পাঠকমুখর হয়ে উঠবে। লাইব্রেরি পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, শুধু অর্থের অভাবে লাইব্রেরিটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরিয়ানের বেতন ও দেখভালের খরচই সবচেয়ে বড় বাধা। লাইব্রেরির মধ্যে এখনো প্রায় আড়াই হাজার বই আছে; তবে কিছু বই নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান বলেন, লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করে পরিচালনা কমিটিকে লাইব্রেরিটি নিয়মিত খুলে বসার ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে লোকের সমস্যা সমাধান এবং লাইব্রেরির জন্য সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow