টিকিটাকার সঙ্গে গতির বিস্ফোরণ
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এর পরই ফুটবল বিশ্বের নতুন রাজা নির্ধারণে নামবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন এবং লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নামবে নান্দনিক শিল্পিত ফুটবলের দেশ স্পেন।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে টিকিটাকার বিস্ময় দেখিয়ে স্পেন জয় করেছিল বিশ্ব। এবারের দলটি লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে নামছে দুরন্ত গতিময় ফুটবল খেলে। বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের সেই দলটি যদি হয়ে থাকে সুরের মূর্ছনা ও ধৈর্যের প্রতীক, তবে এবারের দলটি হলো তীব্র গতি ও আগ্রাসনের প্রতিচ্ছবি। দক্ষিণ আফ্রিকা জয় করা দেল বস্কের সেই স্পেন আর লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট বর্তমান দলটির মধ্যে তুলনা করলে ফুটবল দর্শনের এক চমৎকার বিবর্তন চোখে পড়ে।
২০১০ বিশ্বকাপজয়ী দলটির মূল শক্তি ছিল মাঝমাঠের নিখাদ নিয়ন্ত্রণ। জাভি, ইনিয়েস্তা, আলোনসো ও সার্জিও বুসকেটসের গড়া সেই মাঝমাঠ প্রতিপক্ষকে বল স্পর্শ করার সুযোগই দিত না। একের পর এক নিখুঁত পাসের ফুলঝুরিতে ‘টিকিটাকা’ শৈলী দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ক্লান্ত করে দিতেন তারা। আর স্পেনের বর্ত
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এর পরই ফুটবল বিশ্বের নতুন রাজা নির্ধারণে নামবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন এবং লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নামবে নান্দনিক শিল্পিত ফুটবলের দেশ স্পেন।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে টিকিটাকার বিস্ময় দেখিয়ে স্পেন জয় করেছিল বিশ্ব। এবারের দলটি লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে নামছে দুরন্ত গতিময় ফুটবল খেলে। বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের সেই দলটি যদি হয়ে থাকে সুরের মূর্ছনা ও ধৈর্যের প্রতীক, তবে এবারের দলটি হলো তীব্র গতি ও আগ্রাসনের প্রতিচ্ছবি। দক্ষিণ আফ্রিকা জয় করা দেল বস্কের সেই স্পেন আর লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট বর্তমান দলটির মধ্যে তুলনা করলে ফুটবল দর্শনের এক চমৎকার বিবর্তন চোখে পড়ে।
২০১০ বিশ্বকাপজয়ী দলটির মূল শক্তি ছিল মাঝমাঠের নিখাদ নিয়ন্ত্রণ। জাভি, ইনিয়েস্তা, আলোনসো ও সার্জিও বুসকেটসের গড়া সেই মাঝমাঠ প্রতিপক্ষকে বল স্পর্শ করার সুযোগই দিত না। একের পর এক নিখুঁত পাসের ফুলঝুরিতে ‘টিকিটাকা’ শৈলী দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ক্লান্ত করে দিতেন তারা। আর স্পেনের বর্তমান দলটি খেলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচে। তারা এখন আর পাসের জালে প্রতিপক্ষকে বন্দি রাখার দর্শনেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়; তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রুত গতির উইংপ্লে। লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর মতো তরুণ তুর্কিদের গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে তছনছ করে দিচ্ছে।
মাঝমাঠে রয়েছে রদ্রির মতো প্লে-মেশিন, যিনি দলের রক্ষণ-আক্রমণ দুদিকেই ভারসাম্য এনে দেন। আর দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি সাইড বেঞ্চের গভীরতা। পেদ্রি, গাভি, মিকেল মেরিনো কিংবা ফেরান তোরেসের মতো ফুটবলাররা যে কোনো মুহূর্তে বেঞ্চ থেকে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এর উদাহরণ মিকেল মেরিনো, যিনি এরই মধ্যে বেঞ্চ থেকে উঠে এসে দুই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী সেই দলটির অতি-নিয়ন্ত্রিত ফুটবলই ছিল একমাত্র দুর্বলতা। গতি ও পাল্টা-আক্রমণে তীব্রতার অভাবের কারণে তারা অনেক ম্যাচে গোলমুখে ধুঁকেছে।
অতিরিক্ত পাসিংয়ের কারণে আক্রমণের গতি কমে আসত। আর বর্তমান দলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অতি-আক্রমণাত্মক মানসিকতায় এতটাই মশগুল থাকে যে, মাঝেমধ্যে রক্ষণে ঝুঁকি তৈরি হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার মতো নিখুঁত আক্রমণাত্মক দলের বিপক্ষে যদি এরকম ফাঁক তৈরি হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। ভিসেন্তের দেল বস্ক তার দলকে ক্লাসিক্যাল সংগীতের মতো শান্ত ও পরিশীলিতভাবে পরিচালিত করে সফল হয়েছিলেন, তবে বর্তমানে লা ফুয়েন্তে মুগ্ধ করেছেন রক কনসার্টের মতো তীব্র ও রোমাঞ্চকর খেলা উপহার দিয়ে।
রক্ষণ ও বল দখলের সেই ধ্রুপদি ঘরানা থেকে বেরিয়ে বর্তমান স্পেন ফুটবল বিশ্বকে শাসন করছে নিখাদ গতি আর সাহসিকতায়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে জার্সির বুকে দ্বিতীয় নক্ষত্রটি যুক্ত করার মিশন সফল হবে বলেই ধারণা বিশ্বব্যাপী ফুটবলভক্তদের। টিকিটাকার সোনালি যুগের অনুপ্রেরণা আর বর্তমান দলের গতির মিশেলে স্পেন কি পারবে আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা মাথায় তুলে ধরতে—তা দেখার অপেক্ষা ফুরোবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই।