সিলেটে শতক ছুঁলো প্রাণহানি, হাম শনাক্তের ফল নিয়ে প্রশ্ন
সিলেট বিভাগে গত কয়েকদিন থেকে হামের সংক্রমণ শূন্যের কোটায় থাকলেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত এক সপ্তাহে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে এ সময়ে সন্দেহজনক হাম ও এর উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ রোববার (১৯ জুলাই) আরও এক শিশু মৃত্যু দিয়ে শতক ছুঁয়েছে প্রাণহানি। একই সময়ে হাম আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিভাগে বর্তমানে হাম ও হাম সন্দেহে প্রায় ৩০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও পড়ুন হামের উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৪ শিশুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১০০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগে গত এক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৫০০ শিশু। এই সময়ে কতজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সেই তথ্য নেই। তবে এই সময়ে একজনেরও নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়নি। অথচও এই এক সপ্তাহে সিলেটের মৃত্যু হয়েছে
সিলেট বিভাগে গত কয়েকদিন থেকে হামের সংক্রমণ শূন্যের কোটায় থাকলেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত এক সপ্তাহে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে এ সময়ে সন্দেহজনক হাম ও এর উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ রোববার (১৯ জুলাই) আরও এক শিশু মৃত্যু দিয়ে শতক ছুঁয়েছে প্রাণহানি।
একই সময়ে হাম আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিভাগে বর্তমানে হাম ও হাম সন্দেহে প্রায় ৩০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামের উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৪ শিশুর
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১০০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগে গত এক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৫০০ শিশু। এই সময়ে কতজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, সেই তথ্য নেই। তবে এই সময়ে একজনেরও নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়নি। অথচও এই এক সপ্তাহে সিলেটের মৃত্যু হয়েছে আট শিশুর।
এ অবস্থায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে ল্যাব পরীক্ষার মান নিয়ে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, যদিও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
সিলেট নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমদ বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। নমুনা পরীক্ষা কতজনের হয়, এটার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। এ অবস্থায় হামের বাস্তব চিত্র পাওয়া সম্ভব না।
আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ী তুহিন আহমদ বলেন, সিলেটে হাম পরীক্ষার কোনো ল্যাব নেই। ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসতে আসতে রোগী মারা যায়। আবার কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এ অবস্থায় ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত শূন্যের কোটায় বিষয়টা অস্বভাবিক মনে হয়।
চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১০০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ জেলা। সেখানে প্রাণ গেছে ৪৪ শিশুর। সিলেট জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। এছাড়া মৌলভীবাজারে ১১ জন এবং হবিগঞ্জে আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ৫৪৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ২৮৭ জন, সিলেটে ১৮০ জন, হবিগঞ্জে ৫৫ জন এবং মৌলভীবাজারে ২২ জন। মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি সুনামগঞ্জের, যেখানে হাওরাঞ্চলের দুর্গমতা ও টিকাদানে ঘাটতি সংক্রমণ বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালগুলোতেও এখনো রোগীর চাপ রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন ভর্তি হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এক থেকে দুই বছর বয়সি শিশুরা। এই বয়সে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়ায় জটিলতা বাড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, টিকাদান কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হতো, এখন অনেক দিন কোনো মৃত্যুর ঘটনাই ঘটছে না। তার মতে, পর্যাপ্ত জনগোষ্ঠী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার আওতায় এলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
এফএ
What's Your Reaction?

