অর্থকষ্টে শহীদ জুলাইযোদ্ধা সাংবাদিক মেহেদীর মা-বাবা
বাড়ির উঠোনে নিঃশব্দে শুয়ে আছেন ছেলে। পাশেই ঘরের এক কোণে ধুলা জমেছে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই বৃদ্ধ মা-বাবার চোখে পড়ে দুটি দৃশ্য—একটি কবর, আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের স্মৃতি। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে হারানোর শোক যেন আজও থামেনি পটুয়াখালীর বাউফলের হোসনাবাদ গ্রামের সেই বাড়িতে।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে উত্তাল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের খবর সংগ্রহ করছিলেন ঢাকা টাইমস-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেদী হাসান। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি। দেশের ইতিহাসে সেই আন্দোলন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও, মেহেদীর পরিবারের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।
হোসনাবাদ গ্রামের বাড়িতে এখন বসবাস করেন তার বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট ভাই। জীবিত অবস্থায় মেহেদীর উপার্জনের ওপরই চলত গ্রামের সংসার। একই সঙ্গে ঢাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়েও আলাদা সংসার সামলাতেন তিনি। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে আজ বৃদ্ধ মা-বাবা অর্থকষ্টের সঙ্গে লড়ছেন।
মেহেদীর মা-বাবার অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর পর সরকার, জুলাই ফাউন্ডেশন, ঢাকা টাইমস, নিউজ ট
বাড়ির উঠোনে নিঃশব্দে শুয়ে আছেন ছেলে। পাশেই ঘরের এক কোণে ধুলা জমেছে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই বৃদ্ধ মা-বাবার চোখে পড়ে দুটি দৃশ্য—একটি কবর, আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের স্মৃতি। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে হারানোর শোক যেন আজও থামেনি পটুয়াখালীর বাউফলের হোসনাবাদ গ্রামের সেই বাড়িতে।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে উত্তাল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের খবর সংগ্রহ করছিলেন ঢাকা টাইমস-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেদী হাসান। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি। দেশের ইতিহাসে সেই আন্দোলন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও, মেহেদীর পরিবারের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।
হোসনাবাদ গ্রামের বাড়িতে এখন বসবাস করেন তার বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট ভাই। জীবিত অবস্থায় মেহেদীর উপার্জনের ওপরই চলত গ্রামের সংসার। একই সঙ্গে ঢাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়েও আলাদা সংসার সামলাতেন তিনি। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে আজ বৃদ্ধ মা-বাবা অর্থকষ্টের সঙ্গে লড়ছেন।
মেহেদীর মা-বাবার অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর পর সরকার, জুলাই ফাউন্ডেশন, ঢাকা টাইমস, নিউজ টোয়েন্টিফোরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হলেও তাদের হাতে এসেছে মাত্র ১০ লাখ টাকা। তাদের দাবি, বাকি অর্থ গ্রহণ করেছেন মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি।
কান্নাভেজা কণ্ঠে তারা বলেন, ‘ছেলে মারা যাওয়ার পর থেকে পুত্রবধূর সঙ্গে আমাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে কোথায় থাকেন, সেটিও জানি না। সরকারের দেওয়া মাসিক ভাতার একটি অংশ আমরা পাই, আরেকটি অংশ তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে যায়।’
বৃদ্ধ বয়স, শারীরিক অসুস্থতা আর সংসারের ব্যয়—সব মিলিয়ে দিন যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ওষুধ কিনতে, বাজার করতে কিংবা ছোট ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
মেহেদীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলেটা বেঁচে থাকলে আজ আমাদের এই বয়সে মানুষের কাছে হাত পাততে হতো না। ও ছিল আমাদের শেষ ভরসা।’
তবে শ্বশুর-শাশুড়ির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি। তিনি বলেন, ‘দুই সন্তানকে নিয়ে আমাকেও কঠিন বাস্তবতার মধ্যে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মেহেদীর মা-বাবার কোনো সমস্যা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দেশের এক ক্রান্তিলগ্নে সত্য ও সাহসের সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান। আজ তাঁর দ্বিতীয় শাহাদৎ বার্ষিকীতে বৃদ্ধ মা-বাবা ও পরিবারের প্রত্যাশা—রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন তাদের এই অসহায়ত্বের দিনে আরও মানবিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।