অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ, হুমকির মুখে দেখার হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলাদি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পান্ডারখাল বাঁধটি বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের বিশালাকার স্তূপ করার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে একাধিক স্টোন ক্রাশার। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে, তেমনি চরম হুমকির মুখে পড়েছে দেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বোরো ফসলি এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি জায়গায় গড়ে তুলেছেন এই অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধের দুই পাশজুড়ে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে ইট, বালু ও পাথর। বিভিন্ন স্থানে অবাধে চলছে শব্দদূষণকারী স্টোন ক্রাশার। এসব ভারী মালামাল রাখার কারণে বাঁধের অবকাঠামো দিন দিন দুর্বল হয়ে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া উড়া ধুলাবালু ও ক্রাশারের বিকট শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৫১ বছর আগে দেখার হাওরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি হাওরের বোরো ফসল আকস্মিক বন্যা থেকে রক্ষায় এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একসময় পান্ডারখালের দু’পাশে সারিবদ্ধ গাছপালা ও মাঝ দিয়
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পান্ডারখাল বাঁধটি বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের বিশালাকার স্তূপ করার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে একাধিক স্টোন ক্রাশার।
এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে, তেমনি চরম হুমকির মুখে পড়েছে দেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বোরো ফসলি এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি জায়গায় গড়ে তুলেছেন এই অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধের দুই পাশজুড়ে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে ইট, বালু ও পাথর। বিভিন্ন স্থানে অবাধে চলছে শব্দদূষণকারী স্টোন ক্রাশার। এসব ভারী মালামাল রাখার কারণে বাঁধের অবকাঠামো দিন দিন দুর্বল হয়ে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া উড়া ধুলাবালু ও ক্রাশারের বিকট শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৫১ বছর আগে দেখার হাওরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি হাওরের বোরো ফসল আকস্মিক বন্যা থেকে রক্ষায় এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একসময় পান্ডারখালের দু’পাশে সারিবদ্ধ গাছপালা ও মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহমান নদীর মনোরম দৃশ্য রূপ নিয়েছিল স্থানীয়দের একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নির্মিত সরকারি বসার ছাউনিগুলোও এখন অবৈধ দখলে সৌন্দর্য হারিয়ে বিলীন হতে বসেছে।
যেভাবে বেপরোয়াভাবে ভারী মালামাল রাখা হচ্ছে, এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় বাঁধটি ধসে পড়তে পারে। আর বাঁধ ভেঙে গেলে দেখার হাওরসহ শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন হাজারও কৃষক। কেবল তা-ই নয়, সরু রাস্তায় বালু-পাথরের স্তূপের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাঁধ দখল ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ে বহুবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের মতো ব্যবসা শুরু হয়ে যায়।
পথচারী মো. আমিন বলেন, ছাতক-দোয়ারাবাজার থেকে সুনামগঞ্জে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাঁধটি এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে।
দোহালিয়া ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, একসময় বন্ধুদের সঙ্গে এখানে বসে আড্ডা দিতাম, ছবি তুলতাম। এখন চারদিকে শুধু বালু-পাথরের স্তূপ। সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে, প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল বলেন, ঐতিহ্যবাহী পান্ডারখাল বাঁধ ধ্বংসের পথে। এটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ কালবেলাকে জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?