সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কে কক্সবাজার ছাড়ছেন অনেক পর্যটক

মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মাঝে আকস্মিকভাবে একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর আঘাতে কক্সবাজার সৈকতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলের দিকে লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টর্নেডোর আঘাতে সৈকতে থাকা কিটকটের ছাতা-চেয়ার, লকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হঠাৎ সৃষ্ট এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। অনেক পর্যটক সকালে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে রাতে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন বলেও খবর এসেছে। আরও পড়ুন ৮ দিনের বন্যায় ডুবেছে কক্সবাজারের ৪৯ শতাংশ, প্রাণহানি ৩২   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা জানান, দুপুরের পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ সমুদ্রের ওপর কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। পরে সেটি পানি ও প্রবল বাতাস নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে ধেয়ে আসে। এমন দৃশ্য দেখে পর্যটকদের মধ

সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কে কক্সবাজার ছাড়ছেন অনেক পর্যটক

মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মাঝে আকস্মিকভাবে একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর আঘাতে কক্সবাজার সৈকতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলের দিকে লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

টর্নেডোর আঘাতে সৈকতে থাকা কিটকটের ছাতা-চেয়ার, লকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হঠাৎ সৃষ্ট এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। অনেক পর্যটক সকালে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে রাতে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন বলেও খবর এসেছে।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা জানান, দুপুরের পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ সমুদ্রের ওপর কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। পরে সেটি পানি ও প্রবল বাতাস নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে ধেয়ে আসে। এমন দৃশ্য দেখে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তারা আরও জানান, ঘূর্ণি এ বাতাসের সম্মুখে যা পড়েছে তা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আতঙ্কের মাঝেও অনেকে তা মোবাইলে ভিডিও হিসেবে ধারণ করেন, যা ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‌‘সৈকতে দেখা দেওয়া ঘূর্ণি বাতাসটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে। এর কবলে পড়লে প্রাণহানির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে গ্রীষ্মকাল ছাড়াও বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টর্নেডো যুক্তরাষ্ট্রে হলেও বাংলাদেশেও টর্নেডো হয়ে থাকে। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ টর্নেডোর ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে।’

কক্সবাজার সৈকতে কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, টর্নেডোটি ধীরে ধীরে সাগর থেকে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে বিকেল ৩টার দিকে বেলাভূমিতে আঘাত হানে। এতে বেলাভূমিতে থাকা অন্তত ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা উড়ে গিয়ে ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা।

 

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের ডিউটি ম্যানেজার মুশফিকুর রহিম জানান, শুক্রবার সকালে অনেক পর্যটক পরিবার নিয়ে উঠেছেন। তারা স্ত্রী-সন্তান ও পরিজন নিয়ে সৈকতে গোসলে যান। কিন্তু বিকেলে টর্নেডোর আঘাতের ভয়ের বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে হোটেলে ফিরে অনেকে বলেছেন, তারা সকালে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন। অথচ তারা দু-তিনদিনের জন্য বুকিং দিয়ে উঠেছিলেন।

কক্সবাজার থেকে দূরপাল্লার পরিবহন পরিচালনাকারী কাউসার খান বলেন, শুক্রবার পর্যটকরা কক্সবাজার এলেও চলে যাওয়ার চাপ কম থাকে। কিন্তু আজ সৈকতে টর্নেডোর পর অনেক পর্যটক সন্ধ্যার বাসে ফিরে গেছেন।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, সৈকতে টর্নেডোর আঘাতের বিষয়টি সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে খোঁজ নিয়েছি। কোনো হতাহতের খবর আসেনি।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow