অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন বন্ধ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৪১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। নেই অ্যানেসথেশিয়া, চক্ষু ও নাক-কান-গলা রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে গুরুতর রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে জেলা সদর কিংবা ঢাকায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজন। উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকলেও চিকিৎসক সংকট, অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞের অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালটিতে প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের অস্ত্রোপচার। ল্যাবে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও করা যাচ্ছে না। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা দূরের অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ জন নারী গাইনিসংক্রান্ত সমস্যায় চিকিৎসা নেন। মোট রোগীর প্রায় ১৫ শতাংশের

অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন বন্ধ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৪১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। নেই অ্যানেসথেশিয়া, চক্ষু ও নাক-কান-গলা রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে গুরুতর রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে জেলা সদর কিংবা ঢাকায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজন।

উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকলেও চিকিৎসক সংকট, অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞের অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতালটিতে প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের অস্ত্রোপচার। ল্যাবে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও করা যাচ্ছে না। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা দূরের অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ জন নারী গাইনিসংক্রান্ত সমস্যায় চিকিৎসা নেন। মোট রোগীর প্রায় ১৫ শতাংশের বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। তিনজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। অটো অ্যানালাইজার মেশিনসহ বেশ কয়েকটি যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অভাবে সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিআরপি-সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও একজন সার্জন থাকলেও অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান, অ্যাপেনডিক্স, হার্নিয়া ও অন্যান্য অস্ত্রোপচার। অপারেশন থিয়েটার কার্যত তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

হাসপাতালসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, সামান্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও রোগীকে বাইরে নিয়ে যেতে হয়। সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা থাকলে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া যেত।

গাইনি রোগ নিয়ে আসা এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কিছু পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়েছে। হাসপাতালে এসব সুবিধা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি অনেক কমত।

নার্সিং সুপারভাইজার চামেলি রহমান বলেন, জরুরি সিজারের প্রয়োজন নিয়ে অনেক রোগী এলেও ব্যবস্থা না থাকায় তাদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে। তবে স্বাভাবিক প্রসব নিয়মিত করানো হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক চেয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট দূর হলে সব ধরনের সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়র সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, সদর হাসপাতাল ছাড়া কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক নেই। মন্ত্রণালয় থেকে পদায়ন না হলে স্থানীয়ভাবে এ সংকট সমাধান সম্ভব নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow