অ্যাপোলো থেকে আর্টেমিস: ৫৮ বছরে পৃথিবী কতটা পরিবর্তন হলো
১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো-৮ মিশনের সময় তোলা ঐতিহাসিক আর্থরাইজ ছবিটি মানবজাতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল। চাঁদের দিগন্ত থেকে উঠে আসা নীল পৃথিবীর সেই ছবি শুধু বৈজ্ঞানিক অর্জনই নয়, বরং পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। এবার ৫৮ বছর পর আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা নতুন একটি ছবি তুলেছেন। নাম আর্থসেট। যা আবারও পৃথিবীর পরিবর্তনের গল্প সামনে এনেছে। নাসার এই নতুন ছবিতে দেখা যায় চাঁদের নির্জন পৃষ্ঠের পেছনে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন প্রতিদিন হাজার হাজার স্যাটেলাইট ছবি তোলা হলেও, মানুষের চোখে তোলা এই ছবি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ এতে আবেগ, উপলব্ধি এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত থাকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ছবির মধ্যে পার্থক্য শুধু সময়ের নয়—পৃথিবীর বাস্তব পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। গত ছয় দশকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমপক্ষে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। বনভূমি উজাড়, নগরায়ণ বৃদ্ধি এবং কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের গঠন বদলে গেছে। বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণা অনুযায়
১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো-৮ মিশনের সময় তোলা ঐতিহাসিক আর্থরাইজ ছবিটি মানবজাতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল। চাঁদের দিগন্ত থেকে উঠে আসা নীল পৃথিবীর সেই ছবি শুধু বৈজ্ঞানিক অর্জনই নয়, বরং পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
এবার ৫৮ বছর পর আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা নতুন একটি ছবি তুলেছেন। নাম আর্থসেট। যা আবারও পৃথিবীর পরিবর্তনের গল্প সামনে এনেছে।
নাসার এই নতুন ছবিতে দেখা যায় চাঁদের নির্জন পৃষ্ঠের পেছনে ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন প্রতিদিন হাজার হাজার স্যাটেলাইট ছবি তোলা হলেও, মানুষের চোখে তোলা এই ছবি আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
কারণ এতে আবেগ, উপলব্ধি এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ছবির মধ্যে পার্থক্য শুধু সময়ের নয়—পৃথিবীর বাস্তব পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। গত ছয় দশকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমপক্ষে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। বনভূমি উজাড়, নগরায়ণ বৃদ্ধি এবং কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের গঠন বদলে গেছে।
বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে প্রায় ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার বরফস্তর ভেঙে পড়েছে। একইভাবে উত্তর গোলার্ধেও সমুদ্রের বরফ কমে যাওয়া এবং তুষার গলনের সময় পরিবর্তন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফল। তবে ১৯৬৮ সালেও পরিবেশ দূষণ ছিল গুরুতর—শুধু মহাকাশ থেকে তা এত স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
তবুও আর্থরাইজ যেমন একটি প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, তেমনি আর্থসেট ছবিটিও নতুন করে মানুষকে সচেতন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মহাকাশ থেকে দেখা সেই ছোট্ট নীল গ্রহটিই আমাদের একমাত্র বাসস্থান—এ উপলব্ধিই হয়তো সবচেয়ে বড় বার্তা।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম
What's Your Reaction?