আঁকিবুঁকি থেকে বিশ্বজয়ের জার্সি

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলোয়াড়রাই সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন। কিন্তু ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের নীল জার্সির পেছনেও ছিল এক সৃজনশীল মস্তিষ্কের গল্প। ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের রব ওয়ার্নার সেই ডিজাইনার, যার তৈরি জার্সি গায়ে দিয়েই চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। শৈশবে ফুটবল কমিক চরিত্র ‘রয় অব দ্য রোভার্স’ এর ছবির ওপর আঁকিবুঁকি করে ডিজাইনের হাতেখড়ি হয়েছিল ওয়ার্নারের। সেই শখই পরে তাকে নিয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের কেন্দ্রবিন্দুতে। পুমার হয়ে কাজ করার সময় ২০০৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জার্সি ডিজাইনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে ইতালির রাজকীয় নীল জার্সি। ওয়ার্নারের ভাষায়, ‘ইতালিয়ানরা তাদের জাতীয় দলকে সুপারহিরো হিসেবে দেখে। তাই এমন একটি জার্সি বানাতে চেয়েছিলাম, যা ছবিতে দেখলেও কমিক বইয়ের সুপারহিরোর পোশাকের মতো মনে হয়।’ সেই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তও। ফাইনালে ফ্রান্স অধিনায়ক জিনেদিন জিদানের বিখ্যাত হেডবাটের ঘটনাটি ঘটেছিল ইতালির সেই জার্সি পরা মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঘিরেই। মজা করে ওয়ার্নার বলেন, ‘কত

আঁকিবুঁকি থেকে বিশ্বজয়ের জার্সি

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলোয়াড়রাই সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন। কিন্তু ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের নীল জার্সির পেছনেও ছিল এক সৃজনশীল মস্তিষ্কের গল্প। ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের রব ওয়ার্নার সেই ডিজাইনার, যার তৈরি জার্সি গায়ে দিয়েই চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি।

শৈশবে ফুটবল কমিক চরিত্র ‘রয় অব দ্য রোভার্স’ এর ছবির ওপর আঁকিবুঁকি করে ডিজাইনের হাতেখড়ি হয়েছিল ওয়ার্নারের। সেই শখই পরে তাকে নিয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের কেন্দ্রবিন্দুতে।

পুমার হয়ে কাজ করার সময় ২০০৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জার্সি ডিজাইনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে ইতালির রাজকীয় নীল জার্সি। ওয়ার্নারের ভাষায়, ‘ইতালিয়ানরা তাদের জাতীয় দলকে সুপারহিরো হিসেবে দেখে। তাই এমন একটি জার্সি বানাতে চেয়েছিলাম, যা ছবিতে দেখলেও কমিক বইয়ের সুপারহিরোর পোশাকের মতো মনে হয়।’

সেই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তও। ফাইনালে ফ্রান্স অধিনায়ক জিনেদিন জিদানের বিখ্যাত হেডবাটের ঘটনাটি ঘটেছিল ইতালির সেই জার্সি পরা মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঘিরেই। মজা করে ওয়ার্নার বলেন, ‘কতজন বলতে পারে, তাদের তৈরি পণ্যকে জিদান হেডবাট করেছিলেন?’

ইতালির জার্সির পাশাপাশি তিনি ২০০৪ সালের বিতর্কিত অল-ইন-ওয়ান ক্যামেরুন কিট, ইংল্যান্ডের শেষ আমব্রো জার্সি এবং ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে উসাইন বোল্টের পোশাকও ডিজাইন করেছেন।

বর্তমানে ওয়ার্নার নিজস্ব ডিজাইন একাডেমি পরিচালনা করছেন। তার প্রতিষ্ঠানে ৫০টির বেশি দেশের ৬০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ছাপ রেখে যাওয়া এই ডিজাইনারের গল্প মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বকাপের ইতিহাস শুধু মাঠে নয়, কখনও কখনও লেখা হয় জার্সির নকশাতেও।

টিটি/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow