আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক : খেলাফত মজলিস

‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটি বলেছে, বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। একইসঙ্গে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা ভারতের এমন ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হলেও এ ঘটনায় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক : খেলাফত মজলিস

‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটি বলেছে, বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। একইসঙ্গে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা ভারতের এমন ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হলেও এ ঘটনায় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখনো তলব করেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবিলম্বে সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশুর হাট ইজারায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক।

বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী, সিলেট ও রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার বন্যার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, মেরামত, খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম সরকারকে চলতি মৌসুমেই দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে গৃহীত ব্যারেজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে তারা রাজনৈতিক বেঈমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

বৈঠকে জুলাই গণহত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসাইন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া, আবুল হোসেন, আমির আলী হাওলাদার ও অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow