আগামী বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়: কামরান টি রহমান

আগামী জাতীয় বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও সহায়তামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান। তিনি করহার কমানো, করব্যবস্থা সহজীকরণ, ১০০ টাকার ন্যূনতম কর চালু, মোবাইল অ্যাপে রিটার্ন জমার সুযোগ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার দাবি জানান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শ কমিটির ৪৬তম সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও এফবিসিসিআই প্রশাসক আব্দুর রহিম খানের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসাবান্ধব ও সহায়তামূলক বাজেট প্রত্যাশা করেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, এমন বাজেট দিতে হবে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হবে। আগামী বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়ে সহায়তামূলক হয়। বর্তমানে দেশে এক কোটির বেশি টিআইএনধার

আগামী বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়: কামরান টি রহমান

আগামী জাতীয় বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও সহায়তামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান।

তিনি করহার কমানো, করব্যবস্থা সহজীকরণ, ১০০ টাকার ন্যূনতম কর চালু, মোবাইল অ্যাপে রিটার্ন জমার সুযোগ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার দাবি জানান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শ কমিটির ৪৬তম সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও এফবিসিসিআই প্রশাসক আব্দুর রহিম খানের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির।

নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসাবান্ধব ও সহায়তামূলক বাজেট প্রত্যাশা করেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, এমন বাজেট দিতে হবে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হবে। আগামী বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়ে সহায়তামূলক হয়। বর্তমানে দেশে এক কোটির বেশি টিআইএনধারী থাকলেও অর্ধেকের কম রিটার্ন জমা দেন, যা কর কাঠামোর বড় দুর্বলতা।

তিনি বলেন, দেশের বিশাল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনা ছাড়া ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সম্ভব নয়। এজন্য নতুন করদাতাদের করভীতি দূর করতে বছরে মাত্র ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা ন্যূনতম কর নির্ধারণ এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

তার মতে, এ ধরনের সহজীকরণ ব্যবস্থা চালু হলে করদাতার সংখ্যা বাড়বে, কর ফাঁকি কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশে স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কর সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। সভায় তিনি কার্যকর করহার কমানোরও দাবি জানান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অগ্রিম কর ও উৎসে করের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর করহার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাই করপোরেট করহার শর্তহীনভাবে কমানো এবং নগদ লেনদেনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে কামরান টি রহমান বলেন, আয়কর, ব্যাংক ও কাস্টমসের জন্য সমন্বিত ইউনিফাইড ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল চালু করা দরকার। পাশাপাশি অনলাইন আপিল শুনানির ব্যবস্থাও চালু করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পিএসআর ও উচ্চ জরিমানার বিধান ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব নিয়ম যৌক্তিক করা প্রয়োজন।

ন্যূনতম কর ও অগ্রিম কর সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আয়কর আইনের ধারা ১৬৩ অনুযায়ী সংগৃহীত ন্যূনতম কর পরবর্তী বছরে বহনের সুযোগ দেওয়ায় এনবিআরকে ধন্যবাদ জানাই। তবে নির্দিষ্ট সময় পর অব্যবহৃত সমন্বয়যোগ্য অর্থ ফেরতের বিধানও যুক্ত করা উচিত।

ইএআর/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow