‘আগামী ১৫-২০ বছর হতে পারে ইয়ামালের’

বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক ও কোচ জাভি হার্নান্দেজ স্মরণ করেছেন সেই মুহূর্তের কথা, যখন প্রথমবার লামিনে ইয়ামালকে দেখে তিনি বুঝেছিলেন-এই কিশোর এক প্রজন্মে একবারই জন্ম নেওয়া প্রতিভা। জাভির মতে, বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে প্রথম দেখেই তার মনে পড়েছিল লিওনেল মেসির কথা। পাশাপাশি তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তার বিশ্বাস ইয়ামালের মানসিকতা ও সামর্থ্য তাকে আগামী বহু বছর বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করতে সাহায্য করবে। জাভি জানিয়েছেন, বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে ইয়ামালকে প্রথম দেখার পরই তিনি বুঝেছিলেন, এই উইঙ্গারের গন্তব্য শীর্ষ পর্যায়ে। সাবেক বার্সা কোচের ভাষ্য, কিশোরটিকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল তরুণ মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনার কথা। ১৫ বছর বয়সে ইয়ামালের খেলার ভিডিও দেখেই জাভি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন, বার্সেলোনা অসাধারণ এক প্রতিভা পেয়ে গেছে। তাই চুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা মেটেনি বলে অপেক্ষা করতে বলা হলেও, তিনি চেয়েছিলেন ইয়ামালকে দ্রুতই সিনিয়র দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে। ইয়ামালকে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে জাভি বলেন, ‘লা মাসিয়ায় পারফরম্যান্স

‘আগামী ১৫-২০ বছর হতে পারে ইয়ামালের’

বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক ও কোচ জাভি হার্নান্দেজ স্মরণ করেছেন সেই মুহূর্তের কথা, যখন প্রথমবার লামিনে ইয়ামালকে দেখে তিনি বুঝেছিলেন-এই কিশোর এক প্রজন্মে একবারই জন্ম নেওয়া প্রতিভা।

জাভির মতে, বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে প্রথম দেখেই তার মনে পড়েছিল লিওনেল মেসির কথা। পাশাপাশি তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তার বিশ্বাস ইয়ামালের মানসিকতা ও সামর্থ্য তাকে আগামী বহু বছর বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করতে সাহায্য করবে।

জাভি জানিয়েছেন, বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে ইয়ামালকে প্রথম দেখার পরই তিনি বুঝেছিলেন, এই উইঙ্গারের গন্তব্য শীর্ষ পর্যায়ে। সাবেক বার্সা কোচের ভাষ্য, কিশোরটিকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল তরুণ মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনার কথা।

১৫ বছর বয়সে ইয়ামালের খেলার ভিডিও দেখেই জাভি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন, বার্সেলোনা অসাধারণ এক প্রতিভা পেয়ে গেছে। তাই চুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা মেটেনি বলে অপেক্ষা করতে বলা হলেও, তিনি চেয়েছিলেন ইয়ামালকে দ্রুতই সিনিয়র দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে।

ইয়ামালকে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে জাভি বলেন, ‘লা মাসিয়ায় পারফরম্যান্সই একই বয়সী অন্য খেলোয়াড়দের থেকে তাকে আলাদা করে দিয়েছিল। এ কারণেই যত দ্রুত সম্ভব তাকে মূল দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছি।’

দ্য অ্যাথলেটিকে লেখা নিজের কলামে জাভি লিখেছেন, ‘তাকে দেখার আগেই বার্সেলোনাজুড়ে তার কথা শুনেছিলাম। সবাই এ ছেলেটিকে নিয়ে কথা বলছিল। লিও (মেসি)কে নিয়েও ঠিক এমনটাই হয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল, একজন আর্জেন্টাইন ছেলে আছে, যে দারুণ খেলে, সবার থেকে আলাদা। লামিনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিল।’

তিনি আরও লিখেন, ‘প্রথমবার তাকে দেখেছিলাম যুব দলের একটি ম্যাচের ভিডিওতে, যা ক্লাব আমাদের জন্য ধারণ করেছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৫। সেদিন সে অসাধারণ খেলেছিল। দুটি গোলে সহায়তা করেছিল, একটি গোলও করেছিল। সবকিছুই করছিল সে। তখন আমার মনে হয়েছিল, ধুর, আক্রমণে আমাদের এমন কোনো খেলোয়াড়ই তো নেই!’

জাভির মতে, ইয়ামালের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মাঠে তার শান্ত স্বভাব ক্লাবের সবাইকে বিস্মিত করেছিল। তিনি বলেন, ‘এই ছেলেটি যখন ১৫ বছর বয়সে অনুশীলনে এল, তখনই বোঝা যাচ্ছিল সে আলাদা, বিশেষ কিছু। সে দারুণভাবে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে যেতে পারত। অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিত। খুব কমই ভুল করত।’

মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা অনিবার্য বলেও মনে করেন জাভি। তার মতে, দুজনই বাঁ-পায়ের ফুটবলার, ডান প্রান্ত থেকে খেলেন এবং বল নিজেদের কাছে রাখতে চাইতে কখনো দ্বিধা করেন না। তবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা করে ইয়ামালের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি না করার আহ্বানও জানান তিনি।

জাভি বলেন, ‘লিওর সঙ্গে অনেক মিল আছে। কিন্তু সর্বকালের সেরার সঙ্গে তুলনা করে আমরা ছেলেটির কোনো উপকার করছি না। এতে তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। লামিনে জানে সে আলাদা। তাকে দেখলেই এবং তার সঙ্গে থাকলেই সেটা বোঝা যায়। ঠিক যেমন লিও ও জানত, সে অন্যদের থেকে আলাদা।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৮ বছর বয়সেই সে মাঠে নেতৃত্ব দেয়, যে কিনা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। এমনটা আমরা শুধু লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে এবং হয়তো রোনালদো নাজারিওর ক্ষেত্রেই দেখেছি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে সে ইতোমধ্যে তিনটি লা লিগা শিরোপা, একটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে এবং এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালও খেলছে।’

এছাড়া জাভি আরও বলেন, ‘তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মানসিকতা ও দৃঢ়তা ঠিক থাকলে, সে একটি যুগের সবচেয়ে বড় তারকা হতে পারে। আমরা এমন এক বিশ্বমানের তারকাকে দেখছি, যে নিজের প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড় হতে পারে। সে ইতোমধ্যেই, যদি সেরা না-ও হয়, তাহলেও নিজের প্রজন্মের সেরা পাঁচজনের একজন। তবে আমার কাছে সে আলাদা। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর লামিনেরই হতে পারে, যদি সে সেটাই চায়।’

বার্সেলোনা ও স্পেন- দুই দলে অল্প বয়সেই নিজের জায়গা পাকা করে ইয়ামালের উত্থান আরও গতিশীল হচ্ছে। তবে এখন তার পুরো মনোযোগ ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে খেলায়। শেষ আটে বেলজিয়ামকে বিদায় করার পর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি স্পেনের।

আরএএইচইউএল/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow