আজ চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, হবে ১৫ সমঝোতা সই
চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সেন্ট্রাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির ও মাহদী আমিন। সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘ঐতিহাসিক গ্রেট হলে আজ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও কাল রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর তিনটি পর্বে বিভক্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্বে তিনি মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেছেন। খুব স্বল্প সময়ের এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, রাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’ দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক
চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সেন্ট্রাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির ও মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘ঐতিহাসিক গ্রেট হলে আজ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও কাল রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর তিনটি পর্বে বিভক্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্বে তিনি মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেছেন। খুব স্বল্প সময়ের এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, রাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আমন্ত্রণে চীনের দালিয়ানে যান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাত দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন।’
এই অনুষ্ঠানে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মন্টিনিগ্রো, মঙ্গোলিয়া, গিনি এবং কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেখানে সরকার গঠনের পর গত চার মাসে জলবায়ু খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সুধীবৃন্দের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’
প্রথম বিদেশ সফরের তৃতীয় পর্বে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তারেক রহমান গতকাল চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া ও দালিয়ানের ধারাবাহিকতায় বেইজিংয়েও প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, বর্ণাঢ্য লালগালিচার উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার মাধ্যমে বরণ করা হয়। মোটর শোভাযাত্রা, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও উচ্চ পর্যায়ের পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে দাওতি স্টেট গেস্টহাউজে নিয়ে যাওয়া হয়, যা সম্মানিত রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য নির্ধারিত এবং মর্যাদাপূর্ণ আবাসন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মালয়েশিয়া এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতই এখানেও তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে মাত্র ২৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে সফর করেছেন, এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১১ জন রয়েছেন।’
মাহদী আমিন জানান, চীনা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিং এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আজ সকালে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এবং বিডার যৌথ উদ্যোগে ‘‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চীনের ৮০ জন প্রথম সারির ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মালিকগণ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ- এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করে।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন—অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের নতুন গন্তব্য হিসেবে একটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক অংশীদার হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আজ চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়, চীনের প্রধানমন্ত্রী জনাব লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে, এগুলো চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও জোরদারে পথে প্রভাবক হবে বলে আশা করছি।’
এছাড়া আগামীকাল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। চীনের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।’
একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
What's Your Reaction?