আজ ফুটবল দিবস
আজ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে। কোটি কোটি মানুষ যখন বিশ্বের সেরা দুই দল আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই দেখার অপেক্ষায়, ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে জাতীয় ফুটবল দিবস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘ফুটবল’ বলতে বোঝানো হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল নয়, বরং আমেরিকান ফুটবল। আচ্ছা আরেকটি মজার কথা জানেন কি? যুক্তরাষ্ট্রে কিন্তু ফুটবলকে সকার বলা হয়। একই নাম হলেও দুটি খেলার নিয়ম, ইতিহাস, মাঠ, বল, এমনকি খেলার ধরনও একেবারেই আলাদা। তবু দুটির মধ্যে একটি বড় মিল রয়েছে-দুটিই কোটি কোটি মানুষের আবেগের অংশ এবং জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল যেমন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়, তেমনি আমেরিকান ফুটবল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর পালিত হয় জাতীয় ফুটবল দিবস। বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা শুধু খেলা নয়, ফুটবল একটি সংস্কৃতির উদযাপন জাতীয় ফুটবল দিবস কেবল মাঠে ম্যাচ দেখার দিন নয়। এটি আমেরিকান ফুটবলের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমাজে এর প্রভাব
আজ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে। কোটি কোটি মানুষ যখন বিশ্বের সেরা দুই দল আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই দেখার অপেক্ষায়, ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে জাতীয় ফুটবল দিবস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘ফুটবল’ বলতে বোঝানো হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল নয়, বরং আমেরিকান ফুটবল। আচ্ছা আরেকটি মজার কথা জানেন কি? যুক্তরাষ্ট্রে কিন্তু ফুটবলকে সকার বলা হয়।
একই নাম হলেও দুটি খেলার নিয়ম, ইতিহাস, মাঠ, বল, এমনকি খেলার ধরনও একেবারেই আলাদা। তবু দুটির মধ্যে একটি বড় মিল রয়েছে-দুটিই কোটি কোটি মানুষের আবেগের অংশ এবং জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল যেমন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়, তেমনি আমেরিকান ফুটবল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর পালিত হয় জাতীয় ফুটবল দিবস।
বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা
শুধু খেলা নয়, ফুটবল একটি সংস্কৃতির উদযাপন
জাতীয় ফুটবল দিবস কেবল মাঠে ম্যাচ দেখার দিন নয়। এটি আমেরিকান ফুটবলের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমাজে এর প্রভাবকে স্মরণ করারও একটি উপলক্ষ। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের নিয়ে টাচ ফুটবল খেলা, বাড়িতে টেইলগেট পার্টির আয়োজন, ফুটবলভিত্তিক কুইজ, প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখা কিংবা ফুটবল-থিমের খাবার তৈরি এসবই দিনের আনন্দের অংশ। অনেকেই এ দিনে স্থানীয় যুব ফুটবল কর্মসূচিতে অনুদান দেন বা শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেন। অর্থাৎ, এটি শুধু পেশাদার খেলাকে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির চেষ্টাকেও উৎসাহিত করে।
রাগবি থেকে আমেরিকান ফুটবলের জন্ম
আমেরিকান ফুটবলের শিকড় উনিশ শতকের রাগবি ও অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলে। তবে ১৮৮০-এর দশকে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষক ওয়াল্টার ক্যাম্প খেলাটিতে একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনেন। তার হাত ধরেই লাইন অব স্ক্রিমেজ, ডাউন পদ্ধতি, ফরোয়ার্ড পাসসহ আধুনিক আমেরিকান ফুটবলের ভিত্তি তৈরি হয়। এ কারণেই তাকে ‘আমেরিকান ফুটবলের জনক’ বলা হয়।
এরপর কলেজ ফুটবলে খেলাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৯২ সালে পেশাদার ফুটবলের সূচনা এবং ১৯২০ সালে আমেরিকান প্রফেশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে এর নতুন যুগ শুরু হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটির নাম হয় ন্যাশনাল ফুটবল লীগ। ১৯৬০ সালে আমেরিকান ফুটবল লীগ গঠিত হয় এবং পরে এনএফএলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে জন্ম নেয় সুপার বোল, যা আজ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটি।
রাগবি থেকে আমেরিকান ফুটবলের জন্ম
বিশ্বকাপ বনাম আমেরিকান ফুটবল
আজ যখন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন জাতীয় ফুটবল দিবস মনে করিয়ে দেয় যে ‘ফুটবল’ শব্দটির অর্থ বিশ্বের সব দেশে এক নয়। বিশ্বকাপ ফুটবল বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, যেখানে একটিমাত্র বলকে পায়ের জাদুতে জালে পাঠানোর লড়াই চলে। অন্যদিকে আমেরিকান ফুটবলে শক্তি, কৌশল, পরিকল্পনা এবং শারীরিক সক্ষমতার সমন্বয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি খেলা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, অন্যটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক হলেও দর্শকসংখ্যা ও বাণিজ্যিক সাফল্যে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া ইভেন্ট।
তবে আবেগের দিক থেকে দুই খেলার ভক্তদের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে যেমন কোটি মানুষ প্রিয় দলের জন্য প্রার্থনা করেন, তেমনি সুপার বোলের দিন যুক্তরাষ্ট্র কার্যত উৎসবের দেশে পরিণত হয়।
কোটি কোটি মানুষ যখন বিশ্বের সেরা দুই দল আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই দেখার অপেক্ষায়
আমেরিকানরা ফুটবল দিবস যেভাবে উদযাপন করেন
জাতীয় ফুটবল দিবস উপলক্ষে অনেকেই বাড়ির আঙিনায় বন্ধুদের নিয়ে টাচ ফুটবল খেলেন। কেউ ফুটবলভিত্তিক চলচ্চিত্র দেখেন, আবার কেউ ফুটবল কুইজ, থিমভিত্তিক খাবার বা শিশুদের জন্য ছোটখাটো দক্ষতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এসব আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য একটাই-খেলাধুলাকে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা।
খেলার ভাষা কিন্তু একটাই
আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল নতুন এক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের জন্ম দেবে। একই দিনে পালিত জাতীয় ফুটবল দিবস আবার মনে করিয়ে দেয়, খেলার ধরন ভিন্ন হতে পারে, নিয়ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলার মূল শক্তি একই-মানুষকে একত্র করা, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নতুন স্বপ্ন দেখানো। বিশ্বকাপ ফুটবল হোক কিংবা আমেরিকান ফুটবল-শেষ পর্যন্ত খেলার সবচেয়ে বড় জয় হয় মাঠের বাইরেই। কারণ, খেলাধুলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মানুষকে একসঙ্গে আনন্দ করার একটি অনন্য উপলক্ষ তৈরি করে।
সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার
কেএসকে
What's Your Reaction?