আদর্শিক অবস্থানই আমাদের জয়ের মূল কারণ

দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে পৃথকভাবে অংশ নেয়। নির্বাচনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বিএনপিপন্থি ‘নীল প্যানেল’। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদের সবকটিতেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ কোনো পদেই সাফল্য পায়নি।  গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে ফল ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিটি পদেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ফলাফলকে ‘ক্লিন সুইপ’ বলা হয়, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ একটিও পদ অর্জন করতে পারে না। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬১ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ ৪২৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বলাই চন্দ্র দেব পেয়েছেন ৩৫৫ ভোট। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জেতার পর সভাপতি মো

আদর্শিক অবস্থানই আমাদের জয়ের মূল কারণ

দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে পৃথকভাবে অংশ নেয়। নির্বাচনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বিএনপিপন্থি ‘নীল প্যানেল’। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদের সবকটিতেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ কোনো পদেই সাফল্য পায়নি। 

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে ফল ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিটি পদেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ফলাফলকে ‘ক্লিন সুইপ’ বলা হয়, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ একটিও পদ অর্জন করতে পারে না।

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬১ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ ৪২৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বলাই চন্দ্র দেব পেয়েছেন ৩৫৫ ভোট।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে যে কারণে একচেটিয়া জয় বিএনপিপন্থিদেরঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জেতার পর সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়, ছবি: সংগৃহীত

নীল প্যানেলের একচেটিয়া জয় এবং নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খানের সঙ্গে কথা বলে জাগো নিউজ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুজ্জামান আশিক

জাগো নিউজ: আপনাদের প্যানেলের এই বিপুল বিজয়ের মূল কারণ কী বলে মনে করেন?

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: আমাদের এই বিজয়ের মূল ভিত্তি ছিল আদর্শিক অবস্থান ও ধারাবাহিক রাজনৈতিক চেতনা। আমরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ ধারণ করি। আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, বাস্তবেও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনগুলোর চেতনা ধারণ করেছি। সাধারণ আইনজীবীরা আমাদের এই অবস্থান ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান, বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিল, যা তাদের গ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলেছে বলে আমরা মনে করি।

জাগো নিউজ: এই নির্বাচনে আইনজীবীদের কাছ থেকে কী ধরনের সাড়া পেয়েছেন?

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: আমরা মাঠপর্যায়ে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। সাধারণ আইনজীবীরা পরিবর্তন চেয়েছেন এবং একটি স্পষ্ট আদর্শিক অবস্থান সমর্থন করেছেন। নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছি স্বচ্ছতা, পেশাগত অধিকার রক্ষা ও সমিতির কার্যক্রমে গতি আনা। এসব বিষয় আইনজীবীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এই আস্থার প্রতিফলনই নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে।

জাগো নিউজ: নির্বাচনে কারচুপি বা জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার জানামতে নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হয়েছে। কারচুপির অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আমার এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ভোটের ব্যবধান রয়েছে, যা নিজেই প্রমাণ করে যে ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। এছাড়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারণত সাত থেকে নয় হাজার ভোট পড়ে, এটি দীর্ঘদিনের একটি ধারা। এবারের ফলাফলও সেই ধারার মধ্যেই রয়েছে।

জাগো নিউজ: ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ কী?

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হওয়ার পেছনে বাস্তব কিছু কারণ রয়েছে। নির্বাচনের সময় আবহাওয়া প্রতিকূল ছিল। ঝড়-বৃষ্টি অনেক ভোটারকে কেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত করেছে। এছাড়া সম্প্রতি সদস্য হওয়া প্রায় তিন থেকে চার হাজার নতুন আইনজীবী এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। এই বিষয়টিও মোট ভোটের সংখ্যা কম মনে হওয়ার একটি কারণ। তাই এটি অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি নয়, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী স্বাভাবিক।

আদর্শিক অবস্থানই আমাদের জয়ের মূল কারণঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জয়ী নীল প্যানেলের প্রার্থীরা, ছবি: সংগৃহীত

জাগো নিউজ: নির্বাচনে এত বড় ব্যবধানে জয় পাওয়াকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: এত বড় ব্যবধান আমাদের জন্য অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে আইনজীবীদের একটি বড় অংশ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তবে আমরা এটিকে শুধু বিজয় হিসেবে দেখছি না, এটি একটি দায়িত্ব হিসেবে নিচ্ছি। এই আস্থা ধরে রাখতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জাগো নিউজ: দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনার অগ্রাধিকার কী থাকবে?

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনা। পাশাপাশি সাধারণ আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার রক্ষা, সেবা সহজীকরণ এবং একটি কার্যকর প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে আমরা গুরুত্ব দেব। আমরা চাই, ঢাকা আইনজীবী সমিতি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠুক, যেখানে প্রতিটি সদস্য নিজেকে প্রতিনিধিত্বশীল মনে করেন।

জাগো নিউজ: নির্বাচনে জয়লাভ করায় আপনাকে অভিনন্দন। সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ

মোহাম্মদ আবুল কালাম খান: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।

এমডিএএ/এমআরএম/এমএমএআর/এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow