পাবলিক স্ফিয়ার থাকলে শেখ হাসিনা তৈরি হতো না : ড. সলিমুল্লাহ খান
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্র চিন্তক প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, “যদি আমাদের দেশে কার্যকর ‘পাবলিক স্ফিয়ার’ বা নাগরিক পরিসর থাকতো, তবে শেখ হাসিনা তৈরি হতো না। আমরা এখন এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে রক্তপাত ছাড়া পরিবর্তন আসে না। উচ্চকণ্ঠে সঠিক কথা না বললে এখন কেউ তা শুনতে চায় না।”
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৩টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে মুখ্য বক্তার আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন জার্মান দার্শনিক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের জীবনাদর্শ ও চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে ‘রি ভিজিটিং দ্য সোসিও-পলিটিক্যাল লেগাসি অব ইয়ুর্গেন হাবারমাস ইন কনটেম্পোরারি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, মানবসমাজের বিকাশে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোকায়ন বা এনলাইটেনমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই আলোকায়নের অন্যতম ভিত্তি হলো, ভাষা-দক্ষতা, বিশেষ করে মাতৃভাষায় গভীর জ্ঞান অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট চিন্তাধারা আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে, যেখানে ক্ষমতার সম্পর্ক, বৈষম্য এবং না
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্র চিন্তক প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, “যদি আমাদের দেশে কার্যকর ‘পাবলিক স্ফিয়ার’ বা নাগরিক পরিসর থাকতো, তবে শেখ হাসিনা তৈরি হতো না। আমরা এখন এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে রক্তপাত ছাড়া পরিবর্তন আসে না। উচ্চকণ্ঠে সঠিক কথা না বললে এখন কেউ তা শুনতে চায় না।”
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৩টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে মুখ্য বক্তার আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন জার্মান দার্শনিক ইয়ুর্গেন হাবারমাসের জীবনাদর্শ ও চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে ‘রি ভিজিটিং দ্য সোসিও-পলিটিক্যাল লেগাসি অব ইয়ুর্গেন হাবারমাস ইন কনটেম্পোরারি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, মানবসমাজের বিকাশে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোকায়ন বা এনলাইটেনমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই আলোকায়নের অন্যতম ভিত্তি হলো, ভাষা-দক্ষতা, বিশেষ করে মাতৃভাষায় গভীর জ্ঞান অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট চিন্তাধারা আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে, যেখানে ক্ষমতার সম্পর্ক, বৈষম্য এবং নাগরিক পরিসরের ধারণাগুলো উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র ও ব্যক্তির মধ্যবর্তী যে নাগরিক ক্ষেত্র, সেখানে যুক্তিনির্ভর আলোচনা ও মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা হাবার মাসের দর্শনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সমসাময়িক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।’
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি সমাজব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তন এলে তা নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করে। এই রূপান্তর বোঝার জন্য হাবারমাসের মতো দার্শনিকদের সমালোচনামূলক চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা জরুরি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান শিক্ষার্থীদের পাঠ্যভ্যাস বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, বই পড়ার মাধ্যমেই বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদদের ধারণা সম্পর্কে জানা সম্ভব, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার চন্দ ও সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া তাহসিন সুহা। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।