আদালতের ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন খাবারের হোটেল

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিচার প্রার্থীদের জন্য নির্মিত আধুনিক বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন রূপ নিয়েছে খাবারের হোটেলে। এতে প্রতিদিন আদালতে আসা বিচার প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্রামের সুযোগ থেকে, যা নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও সমালোচনা। দেখা গেছে, বিশ্রামাগারে সকাল থেকেই চলছে খাবার বিক্রি। পরোটা, ভাজি, সিঙ্গারা, সমুচা, চা, সবই এখন সেখানে সহজলভ্য। বসার জায়গাগুলো খাবার টেবিলে পরিণত হওয়ায় বিশ্রামের কোনো পরিবেশ নেই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচার প্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে কোনো বিশ্রামের সুযোগ ছাড়াই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত ‘ন্যায়কুঞ্জ’ গত বছরের ৫ এপ্রিল উদ্বোধন করেন বিচারপতি মাহমুদুল হক। প্রায় আটশ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত বিশ্রামাগারে ৪০ জনের বসার ব্যবস্থা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ওয়াশরুম, একটি ব্রেস্টফিডিং জোন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং একটি ছোট টি-স্টল ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাস পর থেকে জেলা জজ আদালতের নাজির আব্দুল কাদের গাজী সাবেক প্রসে

আদালতের ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন খাবারের হোটেল

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিচার প্রার্থীদের জন্য নির্মিত আধুনিক বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন রূপ নিয়েছে খাবারের হোটেলে। এতে প্রতিদিন আদালতে আসা বিচার প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্রামের সুযোগ থেকে, যা নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও সমালোচনা।

দেখা গেছে, বিশ্রামাগারে সকাল থেকেই চলছে খাবার বিক্রি। পরোটা, ভাজি, সিঙ্গারা, সমুচা, চা, সবই এখন সেখানে সহজলভ্য। বসার জায়গাগুলো খাবার টেবিলে পরিণত হওয়ায় বিশ্রামের কোনো পরিবেশ নেই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচার প্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে কোনো বিশ্রামের সুযোগ ছাড়াই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত ‘ন্যায়কুঞ্জ’ গত বছরের ৫ এপ্রিল উদ্বোধন করেন বিচারপতি মাহমুদুল হক। প্রায় আটশ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত বিশ্রামাগারে ৪০ জনের বসার ব্যবস্থা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ওয়াশরুম, একটি ব্রেস্টফিডিং জোন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং একটি ছোট টি-স্টল ছিল।

কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাস পর থেকে জেলা জজ আদালতের নাজির আব্দুল কাদের গাজী সাবেক প্রসেস সার্ভার এবং পেশকার আব্দুল মুকিতের নিকট এটি ইজারা দেন।

ন্যায়কুঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বর্তমানে পরিচালনা করছেন শেখ আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, তার মামা আব্দুল মুকিত হজে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে দেখাশোনা করছেন। 

বিচারপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিশ্রামাগারে ঢুকলেই এখন খাবারের অর্ডার করতে হয়। নতুবা এখানে বসতে দেওয়া হয় না, এটি অন্যায়। তারা (বিচারপ্রার্থীরা) দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ‘ন্যায়কুঞ্জ’ থেকে খাবার হোটেল অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সেবা নিশ্চিত করা, কিন্তু তা বাণিজ্যিক ব্যবহারে পরিণত হওয়ায় আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়কুঞ্জ থেকে খাবার হোটেল অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামাগারে খাবার হোটেল পরিচালনার বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অভিযুক্ত নাজির আব্দুল কাদের গাজী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow