আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আইএসডিতে গোলটেবিল আলোচনা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)। বাস্তবিক অর্থে সহযোগিতা, মেন্টরশিপ ও রিসোর্স-শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে কী কী অর্জন করা সম্ভব এবং এক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা আলোচনা করা হয়।   সোমবার (৯ মার্চ) আইএসডিতে বিভিন্ন ক্ষেত্র ও পেশা থেকে আসা অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বস্থানীয় নারীদের অংশগ্রহণে ‘গিভ টু গেইন : এমপাওয়ারিং উইমেন, এমপাওয়ারিং দ্য নেশন’ বিষয়ে আলোকপাত করে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের মতো পুরুষ-প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে মেয়েদের অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায়, সরকারি ও বেসরকারি খাতে নেতৃত্বে নারীদের পিছিয়ে পড়ার সমস্যা কীভাবে দূর করা যায় এবং কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলোর ভবিষ্যৎ কেমন, গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে আলোচনা করে প্যানেল আলোচকরা। আইএসডির রোবোটিকসের শিক্ষক আনা ইয়াং মনে করেন যে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি উৎসাহিত করা দরকার। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েদের ক্ষমতায়নে স্টেম শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তাদের নিজের মত করে আগ্রহ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আইএসডিতে গোলটেবিল আলোচনা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)। বাস্তবিক অর্থে সহযোগিতা, মেন্টরশিপ ও রিসোর্স-শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে কী কী অর্জন করা সম্ভব এবং এক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা আলোচনা করা হয়।  

সোমবার (৯ মার্চ) আইএসডিতে বিভিন্ন ক্ষেত্র ও পেশা থেকে আসা অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বস্থানীয় নারীদের অংশগ্রহণে ‘গিভ টু গেইন : এমপাওয়ারিং উইমেন, এমপাওয়ারিং দ্য নেশন’ বিষয়ে আলোকপাত করে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের মতো পুরুষ-প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে মেয়েদের অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায়, সরকারি ও বেসরকারি খাতে নেতৃত্বে নারীদের পিছিয়ে পড়ার সমস্যা কীভাবে দূর করা যায় এবং কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলোর ভবিষ্যৎ কেমন, গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে আলোচনা করে প্যানেল আলোচকরা।

আইএসডির রোবোটিকসের শিক্ষক আনা ইয়াং মনে করেন যে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি উৎসাহিত করা দরকার। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েদের ক্ষমতায়নে স্টেম শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তাদের নিজের মত করে আগ্রহ খোঁজে নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে। মেয়েদেরকে এটা বোঝাতে হবে যে, ভুল করাটা শেখার একটা স্বাভাবিক অংশ। আর অনেক সময় ব্যর্থতাও উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের পথ খুলে দিতে পারে।

প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ মেয়েদের এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা সম্পর্কে সায়মা শওকত বলেন, ‘এখনও অনেক মেয়ে আছে যারা সাধারণ প্রযুক্তি বা ডিভাইসই ব্যবহার করতে পারে না; বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে একটা কম্পিউটার পাওয়াই অনেক কঠিন। শিক্ষা আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জন্য নতুন সুযোগ উন্মোচন করা সম্ভব। বেসরকারি খাত এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারে এবং তরুণ মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পথ তৈরি করে দিতে পারে।’

আলোচনায় আরও উঠে আসে যে কীভাবে শিক্ষা, ব্যবসা আর সামাজিক সংগঠনগুলো একসাথে কাজ করলে নারীদের জন্য মেন্টরশিপের সুযোগ বাড়তে পারে এবং তাদের পেশাদার, উদ্যোক্তা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন আইএসডির প্রাইমারি ইয়ার্স প্রোগ্রামের (পিওয়াইপি) কো-অর্ডিনেটর তৌহিদা আফসার। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন আইএসডির করপোরেট রিলেশনস রিপ্রেজেন্টেটিভ ফারেস্তা আলী মালিক।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এএসকে টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গিয়ারস গ্রুপের পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বিএসিসিও) পরিচালক সায়মা শওকত, লাক্সারি ফ্যাশন লেবেল সারা করিম ক্যুটিউরের প্রতিষ্ঠাতা সারা করিম, আইএসডির রোবোটিকসের শিক্ষক আনা ইয়াং, সুবিধাবঞ্চিত কমিউনিটি নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা থ্রাইভের বোর্ড ভাইস প্রেসিডেন্ট আমনা রহমান, থ্রাইভের পর্ষদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা মঈন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাদিয়া মঈন, এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বায়লা) পরিচালক ও টিআরজেড গার্মেন্টসের পরিচালক জারিন রশিদ।

আইএসডির কমিউনিটিতে অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী নারী আছেন, যারা প্রতিদিন স্কুলটির বিকাশে অবদান রাখছেন। তাদের মধ্যে আছেন শিক্ষক, নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাওয়া তিন শতাধিক নারী অ্যালামনাই। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, মেন্টরশিপ শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে স্কুলটি অ্যাকাডেমিক স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করে।

এক্ষেত্রে, অনন্য দৃষ্টান্ত হচ্ছেন হুমাইরা আফিয়া অর্থি। তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করার পর শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে আইএসডির আইবি ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে যোগ দেন। সুযোগ পেলে স্বপ্ন ও আগ্রহ কীভাবে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে আইএসডির শিক্ষার্থীরা তা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে যাচ্ছে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow