আবু সাঈদ মানুষ ভেবে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, সামনে ছিল অমানুষ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন। রায় পড়ার শুরুতেই এজলাসে আসন গ্রহণের পর প্রধান কৌঁসুলি জানান, আজকের রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম বলেন, আজ আমরা এমন একটি মামলার রায় ঘোষণা করছি, সেটি হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার মামলা। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, যে মানুষগুলোর সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন সবাই মানুষ। কিন্তু না, তারা সেদিন সবাই ‘অমানুষে’ পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের শুরুতে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানু

আবু সাঈদ মানুষ ভেবে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, সামনে ছিল অমানুষ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন। রায় পড়ার শুরুতেই এজলাসে আসন গ্রহণের পর প্রধান কৌঁসুলি জানান, আজকের রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম বলেন, আজ আমরা এমন একটি মামলার রায় ঘোষণা করছি, সেটি হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার মামলা।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, যে মানুষগুলোর সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন সবাই মানুষ। কিন্তু না, তারা সেদিন সবাই ‘অমানুষে’ পরিণত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের শুরুতে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’

jagonews24

শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এ রায় পাঠ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা শেষ করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেফতার আছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার আছেন, বাকি ২৪ জন পলাতক।

রায় ঘোষণার দিনে মামলার ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ছয় আসামিকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আসামিদের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে এজলাসে আসন গ্রহণ করেন তিন বিচারক।

এফএইচ/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow