আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি: শাহনাজ খুশি

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। সাবলীল অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি তার লেখার হাতও বেশ চমৎকার। মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৈশব কিংবা হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তিনি। এবার নিজের প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী, যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে গেছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়। ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে শাহনাজ খুশি জানান, তারা বাবাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতেন। নিজের ছেলেদের ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে আক্ষেপের সুরে তিনি লেখেন, “আমার ছেলেরা জোরে জাপটে ধরে আদর করে। দিনে শতবার আদর আর আবদার পাশাপাশি চলে। ইদানীং আমার খুব মনে হয়, আমি/আমরা কোনোদিন আব্বা-মাকে জড়িয়ে ধরিনি। চোখ সমান ভালোবাসার পাহাড় থাকার পরও ঈদের দিন আর প্রতি বছর ফাইনাল পরীক্ষার দিন পা ছুঁয়ে সালাম করা ছাড়া, আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি!” নিজেকে ‘গ্রাম্য’ বা সাধারণ মানসিকতার দাবি করে অভিনেত্রী জানান, বর্তমান সময়ের আধুনিক মানুষগুলো যখন উৎসুক হয়ে দামি সুগন্ধির ব্র্যান্ড খোঁজে, তখন তিনি প্রিয় মানুষের গন্ধ খোঁজেন। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লেখেন, “আব্বার তেল মেখে গোসল করা, ব্যাক ব্রাশ কর

আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি: শাহনাজ খুশি

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। সাবলীল অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি তার লেখার হাতও বেশ চমৎকার। মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৈশব কিংবা হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তিনি। এবার নিজের প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী, যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে গেছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়।

ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে শাহনাজ খুশি জানান, তারা বাবাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতেন। নিজের ছেলেদের ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে আক্ষেপের সুরে তিনি লেখেন, “আমার ছেলেরা জোরে জাপটে ধরে আদর করে। দিনে শতবার আদর আর আবদার পাশাপাশি চলে। ইদানীং আমার খুব মনে হয়, আমি/আমরা কোনোদিন আব্বা-মাকে জড়িয়ে ধরিনি। চোখ সমান ভালোবাসার পাহাড় থাকার পরও ঈদের দিন আর প্রতি বছর ফাইনাল পরীক্ষার দিন পা ছুঁয়ে সালাম করা ছাড়া, আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি!”

নিজেকে ‘গ্রাম্য’ বা সাধারণ মানসিকতার দাবি করে অভিনেত্রী জানান, বর্তমান সময়ের আধুনিক মানুষগুলো যখন উৎসুক হয়ে দামি সুগন্ধির ব্র্যান্ড খোঁজে, তখন তিনি প্রিয় মানুষের গন্ধ খোঁজেন। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লেখেন, “আব্বার তেল মেখে গোসল করা, ব্যাক ব্রাশ করা চুলের ভাঁজ, ইট চাপা দেয়া ঘাসের মতো স্বর্নমাখা হলুদ ফর্সা গায়ের রং, কোনো পারফিউম ছাড়াই আব্বা আব্বা একটা গন্ধ বুকের ভেতর কেমন যে উথাল-পাতাল করত।” তিনি জানান, তাদের বাড়িতে বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা প্রকাশের কোনো নিয়ম ছিল না।

ভালোবাসা প্রকাশ না করার সেই অলিখিত নিয়মটিই যেন তার জীবনে এখন আক্ষেপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের না-বলা অনুভূতিগুলোকে ‘অভিমানের কেটলি’-তে জমিয়ে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আব্বার কবরটা আমার বুকের জায়গার চেয়ে বড় না। প্রায় জায়গাটার প্রচন্ড তাপে, হাঁসফাঁস করে মরি, তবু কবরটা ছুঁয়ে নিয়ম ভেঙে বলা হয় না, আব্বা আমার কোনো কথাই বলা হয়নি।”

সবশেষে এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে এই অভিনেত্রী লেখেন, “কারণ মানুষকে ছোট করে দেখতে শিখে বড় হইনি আমি! আমার আর কিছুই বলা হবে না কোনো দিন! চেয়ে চেয়ে দেখার কারাদণ্ড আমার আজন্মের...।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow