আর্জেন্টিনাকে কি ভুল বুঝছে মানুষ?

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে আর্জেন্টিনা দলের ‘উগ্র আচরণ’ ও ‘ফাউল’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। মেগা ইভেন্টজুড়ে তাদের আচরণ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এমনকি বিশ্ব ফুটবলের ‘খলনায়ক’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে তাদের। সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ণবাদের মতো গুরুতর অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগকে পাত্তাই দিচ্ছেন না আর্জেন্টাইনরা। তাদের মতে, এটি ফুটবলের আবেগ, যা অন্য দেশের মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে একের পর এক ট্যাকল, হাতাহাতি ও মারামারির দৃশ্য দেখা গেছে। এমনকি ট্রফি নেওয়ার সময় স্পেন ফুটবল দলের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এই ঘটনাকে ‘বিরক্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। আরও পড়ুন ম্যারাডোনা থেকে মেসি / বাংলাদেশ কেন আর্জেন্টিনার প্রেমে পাগল? অন্যদিকে, সাবেক জার্মান ফুটবলার থমাস হিটজলসপারগার আর্জেন্টিনার এই দলকে ‘জঘন্য খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দেন। ব্রিটিশ উপস্থাপক পিয়ার্স মরগান বলেন, আর্জেন্টাইনদের কাজই ছিল স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের লাথি মারা। ব

আর্জেন্টিনাকে কি ভুল বুঝছে মানুষ?

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে আর্জেন্টিনা দলের ‘উগ্র আচরণ’ ও ‘ফাউল’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। মেগা ইভেন্টজুড়ে তাদের আচরণ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এমনকি বিশ্ব ফুটবলের ‘খলনায়ক’ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে তাদের। সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ণবাদের মতো গুরুতর অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগকে পাত্তাই দিচ্ছেন না আর্জেন্টাইনরা। তাদের মতে, এটি ফুটবলের আবেগ, যা অন্য দেশের মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে একের পর এক ট্যাকল, হাতাহাতি ও মারামারির দৃশ্য দেখা গেছে। এমনকি ট্রফি নেওয়ার সময় স্পেন ফুটবল দলের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এই ঘটনাকে ‘বিরক্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

অন্যদিকে, সাবেক জার্মান ফুটবলার থমাস হিটজলসপারগার আর্জেন্টিনার এই দলকে ‘জঘন্য খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দেন। ব্রিটিশ উপস্থাপক পিয়ার্স মরগান বলেন, আর্জেন্টাইনদের কাজই ছিল স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের লাথি মারা।

বর্ণবাদ বিতর্ক ও সমালোচকদের তোপ

মাঠের ঘটনার বাইরেও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বিরুদ্ধে উঠেছে বর্ণবাদের অভিযোগ। মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার আইশোস্পিডকে (IShowSpeed) সরাসরি বর্ণবাদী গালি দেওয়ায় বিবৃতি দিয়েছিল ফিফা। এর আগে ফরাসি বা ব্রাজিলিয়ান কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে গ্যালারি থেকে কলা ছোড়া বা বানরের ভঙ্গি করার ইতিহাসও রয়েছে।

উত্তেজনা আরও বাড়ান হলিউড সুপারস্টার স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের আর্জেন্টিনার সমর্থন না করার আহ্বান জানান। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম ‘বর্ণবাদী দেশ’ বলে উল্লেখ করেন এই তারকা।

ভুল বোঝা হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে?

তবে সমালোচনার ঝড়ে একদমই বিচলিত নন আর্জেন্টিনার সাধারণ জনগণ ও সমর্থকেরা। বুয়েনস আয়ার্সের ৫৫ বছর বয়সী আইনজীবী লিও সিমিওনে বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ ও সমালোচকেরা গর্বকে অহংকার বলে ভুল করে। আর্জেন্টিনা লড়াই করে খেলে, এটা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের স্টাইল। শরীরে ধাক্কা লাগা পছন্দ না হলে ভলিবল খেলা উচিত, ফুটবল নয়।’

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক পেদ্রো রোসেম্বল্যাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের এই বিদ্রোহ তারা সহ্য করতে পারে না। তারা আমাদের বাটপার, ধোঁকাবাজ বলে গালি দেয়। আর আমরা এটা উপভোগ করি। এটি আমাদের গর্বিত করে।’

সমাজবিজ্ঞানী আইভান সুলিয়াকার মনে করেন, ফুটবল মাঠের উগ্রতা দিয়ে পুরো দেশের মানুষকে বিচার করা ঠিক নয়।

তবে ক্রীড়া সাংবাদিক এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ স্বীকার করেন, ট্রফি দেওয়ার সময় স্পেনের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা একদমই উচিত হয়নি। তিনি মনে করেন, নিজেদের দেশের আঞ্চলিক আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবসময় গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে।

সূত্র: এএফপি, আল-জাজিরা
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow