‘আর কেউ বলবে না ভাত খেতে আসো’ দুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা

দুপুরে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভাত খেয়েছিলেন বৃদ্ধ সেকান্দার আলী। কে জানত, সেটিই হবে তাদের একসঙ্গে শেষ খাওয়া। সাগর উপকূলের শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল তার দুই ছেলে মো. মনসুর ও মো. নাসিরের। দুই ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন সেকান্দার আলী। বাবাকে হারিয়ে তার তিন নাতনির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সেকান্দার আলী বারবার বলছিলেন, এখন কীভাবে চলবে সামনের দিনগুলো? কে দাঁড়াবে পরিবারের পাশে? কী হবে তার নাতনিদের? দুই ছেলের মরদেহ রাখা হয়েছে মর্গে। শোকে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেকান্দার। তার পাশে দাঁড়িয়ে নিহত নাসিরের এক মেয়ে এবং মনসুরের দুই মেয়েও কাঁদছিলেন। বাবাকে হারিয়ে তাদের চোখে মুখে এখন অনিশ্চয়তা। কাঁদতে কাঁদতে সেকান্দার আলী বলেন, ১৭ বছর ধরে আমার দুই ছেলে ওই শিপইয়ার্ডে কাজ করে আসছে। কিন্তু কোনো সময় কোনো বিপদের মুখে পড়েনি। এখন আমাকে একসঙ্গে দুই ছেলেকে হারাতে হলো। আর কোনোদিন আমার সন্তানরা বাবা বলে ডাকবে না। বাবা, ভাত খেতে আসো তাড়াতাড়ি-এ কথাও কেউ বলবে না। তিনি বলেন, এখন আমার নাতনিদের কে দেখবে, তাদের কী হবে? ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার ছেলেদের জীবন হারাতে হয়েছে। আহত ছেলেরা যদি সময়

‘আর কেউ বলবে না ভাত খেতে আসো’ দুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা

দুপুরে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভাত খেয়েছিলেন বৃদ্ধ সেকান্দার আলী। কে জানত, সেটিই হবে তাদের একসঙ্গে শেষ খাওয়া। সাগর উপকূলের শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল তার দুই ছেলে মো. মনসুর ও মো. নাসিরের। দুই ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন সেকান্দার আলী। বাবাকে হারিয়ে তার তিন নাতনির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

সেকান্দার আলী বারবার বলছিলেন, এখন কীভাবে চলবে সামনের দিনগুলো? কে দাঁড়াবে পরিবারের পাশে? কী হবে তার নাতনিদের? দুই ছেলের মরদেহ রাখা হয়েছে মর্গে। শোকে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেকান্দার। তার পাশে দাঁড়িয়ে নিহত নাসিরের এক মেয়ে এবং মনসুরের দুই মেয়েও কাঁদছিলেন। বাবাকে হারিয়ে তাদের চোখে মুখে এখন অনিশ্চয়তা।

কাঁদতে কাঁদতে সেকান্দার আলী বলেন, ১৭ বছর ধরে আমার দুই ছেলে ওই শিপইয়ার্ডে কাজ করে আসছে। কিন্তু কোনো সময় কোনো বিপদের মুখে পড়েনি। এখন আমাকে একসঙ্গে দুই ছেলেকে হারাতে হলো। আর কোনোদিন আমার সন্তানরা বাবা বলে ডাকবে না। বাবা, ভাত খেতে আসো তাড়াতাড়ি-এ কথাও কেউ বলবে না। তিনি বলেন, এখন আমার নাতনিদের কে দেখবে, তাদের কী হবে? ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার ছেলেদের জীবন হারাতে হয়েছে। আহত ছেলেরা যদি সময়মতো চিকিৎসাসেবা পেত, তাহলে হয়ত তাদের প্রাণ যেত না।

নিহত মনসুরের বড় মেয়ে রুপা আক্তার বলেন, ‘শুক্রবার বন্ধের দিন। কিন্তু বাবাকে তারা জোর করেই ইয়ার্ডে নিয়ে যায়। সকালে দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা আহতদের ইয়ার্ডের ভেতরে গেট বন্ধ করে রাখা হয়। সে সময়ে দ্রুত চিকিৎসা পেলে বাবা হয়ত বেঁচে যেতেন।

রুপা আরও বলেন, এখন আমাদের কে দেখবেন? কী হবে আমাদের? কী করে চলবে বাকি জীবন? এমন শত শত প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। আমাদের কোনো ভাই নেই। আমরা তিন বোন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বাবা। এদিকে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।

এলাকাবাসী বলেন, নাসির ও মনসুর দুই ভাই এলাকায় ভালোমানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সবাই তাদের ভালোবাসতেন। দুই ভাইয়ের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। নিহতদের পরিবারকে সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে বিষক্রিয়ায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১০ জনের বেশি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সেকান্দার আলীর দুই ছেলে মনসুর ও নাসিরও রয়েছেন। উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাগর উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস রিসাইক্লিং শিপইয়ার্ডে এলএনজি নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়।

এম মাঈন উদ্দিন/কেজে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow