আলাউদ্দিন আজাদের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা 

শাড়িটি তার জন্য কিনেছিলাম     অনেক আগে শাহজাদপুর হাট থেকে বাসন্তী রঙের একটা শাড়ি কিনেছিলাম তাঁকে ফুল ও শাড়িতে বাসন্তী সাজে দেখবো বলে। কোকিলের মায়াবী কণ্ঠের সুরে সুরে পুষ্পমাখা দীপ্ত দুপুরে, তাঁর হাতটি ধরে মিলতে চেয়েছিলাম বসন্ত উৎসবে। শিমুল-পলাশের মতো ফুটবে প্রেম নব পল্লবের মতো জাগবে শুদ্ধ ভালোবাসা আমরা অমর হয়ে রইব পৃথিবীতে। অথচ এখনো তাঁকে কাছে পাইনি কোনোদিন দেখাও মেলেনি; ভাবনায় ভাবনায় সেজেছি রোমিও। বাসন্তীর সাজে তাকে দেখতে চেয়েছিলাম বলেই শাড়িটি তার জন্যই কিনেছিলাম! অথচ শাড়িটি তাকে দিতেই পারলাম না পরম কষ্টে। সযত্নে রেখেছি, বিছানার বাম পাশে।      অনুরাগের দিব্যি যখন বসন্তকাল এসেছিল  তখনই ভালোবাসতে পারিনি। এখন ভরা বর্ষাকাল, বেদনার যান্ত্রিকে জীবন প্রবাহিত। তবে কথা দিতে পারি যদি আবার বসন্ত আসে যদি বাগিচায় কুসুম ফোটে যদি সুকণ্ঠে কোকিল ডাকে যদি হাওয়ায় পুষ্পের সৌরভ ভাসে। যদি আবার সহসা দেখা হয় বসন্ত মেলায় জোর গ্রীবায় বলছি, খোয়াতে দেব না নিরন্তর ভালোবাসবো, সমীপে থাকব। এ আমার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নয় এ অনুরাগের দিব্যি।     কেবল শুধুই তুমি

আলাউদ্দিন আজাদের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা 
শাড়িটি তার জন্য কিনেছিলাম     অনেক আগে শাহজাদপুর হাট থেকে বাসন্তী রঙের একটা শাড়ি কিনেছিলাম তাঁকে ফুল ও শাড়িতে বাসন্তী সাজে দেখবো বলে। কোকিলের মায়াবী কণ্ঠের সুরে সুরে পুষ্পমাখা দীপ্ত দুপুরে, তাঁর হাতটি ধরে মিলতে চেয়েছিলাম বসন্ত উৎসবে। শিমুল-পলাশের মতো ফুটবে প্রেম নব পল্লবের মতো জাগবে শুদ্ধ ভালোবাসা আমরা অমর হয়ে রইব পৃথিবীতে। অথচ এখনো তাঁকে কাছে পাইনি কোনোদিন দেখাও মেলেনি; ভাবনায় ভাবনায় সেজেছি রোমিও। বাসন্তীর সাজে তাকে দেখতে চেয়েছিলাম বলেই শাড়িটি তার জন্যই কিনেছিলাম! অথচ শাড়িটি তাকে দিতেই পারলাম না পরম কষ্টে। সযত্নে রেখেছি, বিছানার বাম পাশে।      অনুরাগের দিব্যি যখন বসন্তকাল এসেছিল  তখনই ভালোবাসতে পারিনি। এখন ভরা বর্ষাকাল, বেদনার যান্ত্রিকে জীবন প্রবাহিত। তবে কথা দিতে পারি যদি আবার বসন্ত আসে যদি বাগিচায় কুসুম ফোটে যদি সুকণ্ঠে কোকিল ডাকে যদি হাওয়ায় পুষ্পের সৌরভ ভাসে। যদি আবার সহসা দেখা হয় বসন্ত মেলায় জোর গ্রীবায় বলছি, খোয়াতে দেব না নিরন্তর ভালোবাসবো, সমীপে থাকব। এ আমার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নয় এ অনুরাগের দিব্যি।     কেবল শুধুই তুমি এই বসন্তে ঢের ইচ্ছে তোমার দেখা পাবো তুমি বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়ে আসবে সুগন্ধি কেশে গুঁজে দেবো সুগন্ধ বেলি ফুল। তোমার অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে রবো কোনো শিমুল, পলাশ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় বসে বসে তোমার রূপের মুগ্ধতা নেবো হৃদয়ভরে।  তুমি আসবে বাসন্তী সাজে চোখ জড়ানো চোখে তোমাকে দেখেই শিমুল, পলাশ রক্ত কৃষ্ণচূড়ারা লুটিয়ে পড়বে তোমার অপার সৌন্দর্যের মুগ্ধতায়।  প্রাণভরে প্রথম দেখাটি দেখে তোমায় মৃদু হেসে বলবো নারী তোমার রূপের ঝলকে হার মানে শিমুল, পলাশও তুমি এত সুন্দর যেনো বসন্তের রানি কেবল শুধু তুমিই।      এই বসন্তে এই বসন্তে আমাদের দেখা হোক রোদের ফাঁকে সবুজের ছায়ায় কথা হোক, পরিচয় হোক নিস্তব্ধতার মধ্যেও শব্দ হোক। এই বসন্তে আমাদের সাক্ষাৎ হোক ফুলের গন্ধ ভরা বিকেলে, জানার হোক, বুঝার হোক অচেনা মন আপন হোক।  এই বসন্তে আমাদের মিলন হোক পলাশ ও শিমুলের সৌন্দর্যের মায়ায়,   গল্প হোক, আড্ডা হোক কোকিলের কণ্ঠে দিল জাগ্রত হোক।  এই বসন্তে আমাদের সম্পর্ক হোক  জন্ম নেয়া নব সাজে পল্লবের মতো,   প্রেম হোক, ভালোবাসা হোক দুইটি হৃদয়ের মহা সন্ধি হোক।     শে শে এখনো লজ্জাবতীর মতো অভিমান করে আছে অনেক দিন ধরে বায়না ধরে আছে আইসক্রিম খাবে। আমি ব্যস্ত, সময়কে তাড়া করি, তবু বলি বাড়ির আশপাশের দোকানগুলো তো সারাক্ষণ খোলা, মন চাইলে খেয়ে নিও। শে বড় অদ্ভুত, আইসক্রিম সে একা খাবে না। আমাকে সঙ্গে নিতে চায়, রৌদ্রময় শহরের অলিগলিতে হাঁটতে হাঁটতে  হঠাৎ থেমে কণ্ঠে তুলবে রবীন্দ্রসুর আমারও পরাণ যাহা চায়…     মন আমারও চায় তোমাকে নিয়ে শহর চষে বেড়াতে মন চায়, তোমার হাতটি ধরে আইসক্রিম খেতে মন চায়, তোমার কণ্ঠে ডুবে যেতে রবীন্দ্রসংগীতে। কিন্তু কাজের চাপের ভিড়ে শ্বাস নেওয়ারও সময় নেই তবু সে স্বপ্ন দেখে আমাকে সঙ্গে নিয়ে  আইসক্রিমের মিষ্টি স্বপ্নে ভেসে যেতে।     প্রত্যাশা তোমায় চেয়েছিলাম কোকিল ডাকা রোদ্দুর বসন্তে!  যেখানে পুরনো পাতার মতো ঝরে পড়ে দুঃখ।  পল্লবের মতো জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন,    জীবন খুঁজে পায় নির্মল পৃথিবী  অথচ তুমি বর্ষা হয়েই ফিরলে।     বসন্ত হয়ে এসো তোমাকেই ভালোবাসি বলেনি মুখে হৃদয়ে বসন্ত এসেছে তোমারই সুখে,   যদিও আছো অনেক দূর, তবুও পাশে তোমার নামে অন্তরজুড়ে খুশবু ভাসে। মৌমাছির মতো ছুটে এসো, থাকো বুকজুড়ে ভালোবেসো আমায় অন্তকাল, রেখো না দূরে, সুখে নয়, দুখেও তোমার হাতটি ধরে থাকবো  আমৃত্যু তোমাকেই শুধু হৃদয় গভীরে রাখবো।প তুমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ, না আসুক মোর জীবনে তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে, চাই না আমি ভুবনে,   বসন্ত হয়ে তুমিই এসো, আমি পলাশ হয়ে ফুটবো তোমার ভালোবাসা পেয়ে কোকিল হয়ে ছুটবো।     প্রেম দাও, না হয় অভিশাপ দাও প্রেম দাও, না হয় অভিশাপ দাও অপেক্ষার পথ দীর্ঘ হয়!  নীরব রাত জাগায় ব্যথা  তবু, হৃদয় তোমারই আলো খুঁজে ফেরে,   অনুরাগ ডাকে বারংবার।  স্বপ্ন জাগে তবুও তোমার  স্পর্শের আশায় নিরন্তর।     প্রেম আসেনি মনে প্রেম করেনি, প্রেমে পড়েনি, প্রেম আসেনি মনে ময়না, টিয়ে জানে তবে, জানে না রূপবতী কনে,   গোলাপ কিনিনি কোনো দিবসে, দেইনি কারো হাতে জোছনাও দেখেনি কোনোদিন, পাশাপাশি বসে রাতে।  ভোমর হয়ে ছুটেনি কোনোদিন, ফুল বাগানে কারো কাটার চেয়ে উত্তম ভীষণ , বিজন আঁধার কালো, পাখির মতো শুধায়নি গান, পাশ্ববর্তী নির্জনে বসে মধুর কথাও হয়নি কোনোদিন, রোমান্টিক সাজে। পলাশ হয়েও ফুটেনি আজো, বসন্তের শুভ আগমনে শূন্যতাতেই শুধু বিরাজমান, প্রেমহীন এই কুমার মনে,   ভরপুর চারিদিকে প্রেমের গুঞ্জন, কোকিল গানে ব্যস্ত দুনিয়ার মোহ ভাবনায় পড়ে আছি, অনুরাগে নই আস্ত।             একাকীত্ব পাশে নাই কেউ যদিও ঘুরে বেড়াই একা একা, দিগন্তজোড়া পথ ডাকে মনের অচেনা আঁকা। দেখি পাহাড়, ঝরনা, নদীও নীরবতায় কথা কয়, একলা পথিক হাসে মনে ভয় যে আর ভয় নয়। আকাশ জুড়ে স্বপ্ন ওড়ে হাওয়ার সাথে গোপন গান, একাই চলি, তবু বুঝি একাকীত্বই শক্তি প্রাণ।        তুমি আমার তুমি আমার নাই বা হলে তাই বলে দেখবো না,   তোমার ছবি তাই বলে কি হৃদয় মাঝে আঁকবো না!  তুমি আমার রাতের জোছনা তাই বলে চাইবো না,   তোমার আলো তাই বলে কি শরীর জুড়ে মাখবো না।  তুমি আমার কাননের ফুল তাই বলে ঘ্রাণ নেব না,   তোমার সুবাসে তাই বলে কী অন্তর জাগতে দেব না।  তুমি আমার কবিতার ভাষা তাই বলে লিখবো না,   তোমার কথা তাই বলে কি পৃথিবীকে জানাবো না।      বর্ষায় প্রথম দেখা বর্ষার প্রথম দিনে, তোমার দেখা পেয়ে, আনন্দে আটখানা হয়েছিলাম আমি। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ভিজে তুমি যখন চললে, আমি ছাতা হাতে দাঁড়ালাম তোমার সামনে। তুমি থমকে দাঁড়ালে, নিশ্চুপ চোখে আমাকে দেখলে, কিছুই বললে না, তবু পাশাপাশি এক ছাতার নিচেই চললে। তোমার গুনগুন করা গান ভেসে আসছিল কানে,   এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন !  একাকী রইলো না। কী তোমার কোকিলা সুর,   গায়ে কী কদমের সুবাস আমার পথচলাকে এক বিস্ময়ে ভরিয়ে তুললো।     কবি পরিচিতি : আলাউদ্দিন আজাদ এর জন্ম ১৯৯৮ সালে তালতলা গ্রামে, পিতা মো. নূর ইসলাম। মাতা মোছা. আঙ্গুরা বেগম। চার ভাইবোনের মধ্যে কবি সবার ছোট। কবির জন্ম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ উপজেলা শাহজাদপুরে।       এখানে অনেক গুণীজনের জন্ম হয়েছে। অমর কথাশিল্পী নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন, সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ, ভাষাবিদ, কবি ও গবেষক আবদর রশীদ চৌধুরী, কবি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ড.মযহারুল ইসলাম ও দেশবরেণ্য  আলোকচিত্রশিল্পী ও ভাষাসৈনিক আমানুল হক, উপমহাদেশের বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক  অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন, লেখক, গবেষক, আখতার উদ্দিন মানিকসহ আরও অনেক গুণীজন। এছাড়াও শাহজাদপুরে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত রবীন্দ্র কাছারি কাছারি বাড়ি। যা এখনো সাহিত্যপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ে।     আলাউদ্দিন আজাদ হাইস্কুলে পড়াকালীন স্থানীয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এর সদস্য হওয়ার পর থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তার পথচলা। তিনি বই পড়া কর্মসূচির পাশাপাশি লেখালেখি, আবৃত্তি, অভিনয়  সাহিত্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। তিনি স্থানীয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক কর্মী। বর্তমান তিনি একটা প্রতিষ্ঠানের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow