‘আসামি নিজেই দোষ স্বীকার করেছেন, তাই যাবজ্জীবন চেয়েছি’
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজেকে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ। একই সঙ্গে এই মামলার সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আগামী রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, গতকাল আসামি নিজেই আদালতের কাছে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি আদালতের কাছেও বলেছেন, তিনি অপরাধ করেছেন এবং মাফ চান। সেহেতু আমি আদালতে বলেছি, তার বক্তব্য এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। যেহেতু তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন, তাই তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছি।’ তিনি ব
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজেকে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ।
একই সঙ্গে এই মামলার সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আগামী রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, গতকাল আসামি নিজেই আদালতের কাছে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি আদালতের কাছেও বলেছেন, তিনি অপরাধ করেছেন এবং মাফ চান। সেহেতু আমি আদালতে বলেছি, তার বক্তব্য এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। যেহেতু তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন, তাই তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছি।’
তিনি বলেন, স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো মরদেহ গুমে সহায়তা করা। সে কারণে সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে যে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা রয়েছে, আদালত যেন সেই বিধান অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করেন, সেই আবেদন করেছি।
মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে আলোচিত হওয়ায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আসামিপক্ষে দাঁড়াবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ফলে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন
রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত, সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলো রাষ্ট্রপক্ষ
রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার
তিনি বলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় আসামির কোনো আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্রকে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিতে হয়। সেই বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার আমাকে আসামিদের পক্ষে নিয়োগ দিয়েছে। আমার দায়িত্ব ছিল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো বক্তব্য বা যুক্তি থাকলে তা আদালতের সামনে উপস্থাপন করা।
তিনি আরও বলেন, আমি সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আসামিদের পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু আসামিরা কোনো সাফাই সাক্ষ্য দিতে চাননি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণও আদালতে উপস্থাপন করেননি। এতে বোঝা যায়, নিজেদের পক্ষে উপস্থাপনের মতো কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ তাদের কাছে ছিল না। উপরন্তু প্রধান আসামি নিজেই আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং ১১টা ৩৮ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে এজলাসে তোলা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে গঠিত চার্জ সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে উভয় আসামির বিরুদ্ধে আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ প্রধান আসামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করে।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন আগামী ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। এখন বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে নিহত রামিসার পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।
এমডিএএ/এমআইএইচএস
What's Your Reaction?