ইফতারের সময় খালি পেটে গ্যাসের ওষুধ খাওয়া কতটা নিরাপদ
রমজানের সময় ইফতার বা সেহরির আগে অনেকেই খালি পেটে গ্যাসের ওষুধ খান। গ্যাস বা অম্বল থেকে বাঁচতেই এই অভ্যাস তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। অনেকেই মনে করেন, আগে থেকে গ্যাসের ওষুধ খেলে পরে নিশ্চিন্তে যেকোনো খাবার খাওয়া যায় এবং গলা বা বুকজ্বালার সমস্যা হবে না। এই ধারণা পুরোপুরি ভুল না হলেও এটি মূলত সাময়িক স্বস্তি দেয়। কিন্তু দিনের পর দিন একই ওষুধ খেতে থাকলে একসময় এর কার্যকারিতা কমে যায়। তখন ওষুধ খাওয়ার পরেও গ্যাসের সমস্যা কমে না, বরং শরীরে অন্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে। খালি পেটে গ্যাসের ওষুধ খেলে যে সমস্যা হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) নামে পরিচিত ওষুধগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে হার্ট ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই ওষুধগুলো মূলত পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটি শরীরের পুষ্টি শোষণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিআই গোত্রের ওষুধ দীর্ঘ
রমজানের সময় ইফতার বা সেহরির আগে অনেকেই খালি পেটে গ্যাসের ওষুধ খান। গ্যাস বা অম্বল থেকে বাঁচতেই এই অভ্যাস তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। অনেকেই মনে করেন, আগে থেকে গ্যাসের ওষুধ খেলে পরে নিশ্চিন্তে যেকোনো খাবার খাওয়া যায় এবং গলা বা বুকজ্বালার সমস্যা হবে না। এই ধারণা পুরোপুরি ভুল না হলেও এটি মূলত সাময়িক স্বস্তি দেয়।
কিন্তু দিনের পর দিন একই ওষুধ খেতে থাকলে একসময় এর কার্যকারিতা কমে যায়। তখন ওষুধ খাওয়ার পরেও গ্যাসের সমস্যা কমে না, বরং শরীরে অন্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
খালি পেটে গ্যাসের ওষুধ খেলে যে সমস্যা হয়
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) নামে পরিচিত ওষুধগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে হার্ট ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই ওষুধগুলো মূলত পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটি শরীরের পুষ্টি শোষণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিআই গোত্রের ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে অপুষ্টিজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শরীর প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজ সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। এর ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে গাঁটে গাঁটে ব্যথা বা অস্বস্তির সমস্যাও দেখা দেয়। পাশাপাশি কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনি বিকলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, পিপিআই জাতীয় কয়েকটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক বেশি। যেমন ওমিপ্রাজোল, প্যান্টোপ্রাজোল বা ইসোমিপ্রাজোল। বেশিরভাগ মানুষই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এগুলো নিয়মিত খেয়ে থাকেন।
পিপিআই জাতীয় ওষুধ পাকস্থলীর স্বাভাবিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে দেয়। অথচ এই অ্যাসিড শুধু খাবার হজম করতেই সাহায্য করে না, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে অ্যাসিডের মাত্রা কমে গেলে শরীরের স্বাভাবিক হজমক্ষমতা কমে যায় এবং অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও বেড়ে যেতে পারে।
হঠাৎ অম্বল বা বুকজ্বালা হলে অনেক সময় লিকুইড অ্যান্টাসিড দ্রুত আরাম দিতে পারে। কিন্তু অনেকেই এই সাময়িক সমস্যার জন্য নিয়মিত পিপিআই খেতে শুরু করেন, যা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
যেভাবে খাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যায় সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পিপিআই খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই একবার শুরু করার পর বছরের পর বছর এই ওষুধ খেতে থাকেন, কখনো কখনো জীবনভরও চালিয়ে যান। এটিই পরে নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা খুব বেশি হলে প্রতিদিন ওষুধ না খেয়ে কয়েক দিন টানা খেয়ে কিছুদিন বন্ধ রাখা যেতে পারে। যেমন ২-৩ দিন খেয়ে পরে বিরতি দেওয়া। আবার প্রয়োজন হলে এক সপ্তাহ পরে খাওয়া যেতে পারে। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন এক দিন পরপর খাওয়া শুরু করে পরে পুরোপুরি বন্ধ করা যেতে পারে।
তবে যাদের হার্টের অসুখ রয়েছে বা অন্য কোনো কারণে চিকিৎসকের নির্দেশে এই ওষুধ খেতে হয়, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
- আরও পড়ুন:
রোজায় গ্যাস্ট্রিক ও পেটের যত্নে মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ
পানিশূন্যতায় কি ব্লাড সুগার বেড়ে যায়
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?