ইবিতে ভর্তি জালিয়াতি, ছাত্রত্ব ছাড়াই এক সেমিস্টার ক্লাস-পরীক্ষা দিলেন ‘তরুণী’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে ভর্তি জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব না থাকলেও এক তরুণী পুরো এক সেমিস্টার নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অবশেষে ফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যারে তার রোল নম্বর না পাওয়ায় বেরিয়ে আসে জালিয়াতির বিষয়টি। ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি গঠন করা হয়নি কোনো তদন্ত কমিটিও। এতে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২৪১০১০৪ রোলধারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে শামিমা আক্তার জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস ও প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। ফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল নম্বর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভর্তি জালিয়াতির ঘটনা। এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই পরীক্ষা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিষয়টি বিভাগীয় সভাপতিকে জানানো হলে একই দিন জরুরি একাডেমিক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় অভিয

ইবিতে ভর্তি জালিয়াতি, ছাত্রত্ব ছাড়াই এক সেমিস্টার ক্লাস-পরীক্ষা দিলেন ‘তরুণী’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে ভর্তি জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব না থাকলেও এক তরুণী পুরো এক সেমিস্টার নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অবশেষে ফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যারে তার রোল নম্বর না পাওয়ায় বেরিয়ে আসে জালিয়াতির বিষয়টি। ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি গঠন করা হয়নি কোনো তদন্ত কমিটিও। এতে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২৪১০১০৪ রোলধারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে শামিমা আক্তার জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস ও প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। ফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তার রোল নম্বর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভর্তি জালিয়াতির ঘটনা। এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই পরীক্ষা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিষয়টি বিভাগীয় সভাপতিকে জানানো হলে একই দিন জরুরি একাডেমিক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি-সংক্রান্ত কোনো নথি বিভাগ বা একাডেমিক শাখায় না পাওয়ায় তার পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান (সুইটি) ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মুরাদ হোসেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভাগ থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা একাডেমিক শাখায় কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়নি। বরং বিভাগীয় স্টাফদের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে তথ্য যাচাই করা হয়। এমন গুরুতর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত না করে বিভাগীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর তা প্রকাশ্যে আসে। ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতচক্র কাজ করছে এবং দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বিভাগের কয়েকজন ব্যক্তি তাদের সহায়তা করছেন। তাদের প্রভাবেই বিভাগ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিভাগীয় সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগের সর্বশেষ নিবন্ধিত রোল ছিল ২৪১০১০৩ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২৪০০০৮৩৩)। বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি তালিকায় শামিমা আক্তারের নাম বা রোল নম্বর ছিল না। পরে একাডেমিক শাখা থেকে ওই তালিকা বিভাগে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী সেই তালিকা অনুসারেই শিক্ষার্থীদের বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার কথা। ধারণা করা হচ্ছে, জালিয়াতির মূল ঘটনাটি বিভাগীয় পর্যায়েই ঘটেছে। এদিকে বিভাগের অফিসিয়াল কম্পিউটারে কীভাবে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর দিয়ে শামিমা আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করার পাশাপাশি প্রথম সেমিস্টারের ফরম পূরণ করে পরীক্ষায়ও অংশ নেন। তবে ফল তৈরির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যারে তার রোল নম্বর না থাকায় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘সমস্যাটি লিখিতভাবে বিভাগীয় সভাপতিকে জানানো হলে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সেখানে শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভাগকে জানিয়েছি। পরে বিভাগের সভাপতি ও সিনিয়র শিক্ষকদের বৈঠকে উপাচার্যকে বিষয়টি অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ সূত্র জানায়, রোববার (২৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ১১ জুলাইয়ের একাডেমিক সভার সিদ্ধান্ত উপাচার্যকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মুরাদ হোসেনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এক বান্ধবীকে নিয়ে আমার কাছে এসে জানায়, সে অনেকদিন ধরে ক্লাস করছে কিন্তু নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমি জানতে চাই সে কোন কোটায় ভর্তি হয়েছে। সে জানায়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হয়েছে। পরে বলে, তার দাদার কোটায় ভর্তি হয়েছে এবং তার রোল নম্বর হবে ২৪১০১০৪।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী বলেন, ‘সে অনেক আগে থেকেই ক্লাস করছিল। মিথ্যা তথ্য দিয়ে এমন কাজ করবে, তা ভাবিনি। যথাযথ যাচাই না করাটা আমার ভুল হয়েছে। তবে এটিকে গাফিলতি বলা হবে কি না, জানি না।’ অভিযুক্ত শামিমা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভাগের সভাপতি ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটি বিষয়টি জানালে আমরা জরুরি সভা করি। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ স্টাফদের গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সভায় আলোচনা হয়েছে। অনেকে তদন্ত কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে যেহেতু প্রথম পর্যায়েই বিষয়টি ধরা পড়েছে এবং ওই শিক্ষার্থীকে কোনো সনদ দেওয়া হয়নি, তাই মানবিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১১ জুলাই ও ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে পাঠানো হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তাদের ভর্তি বাতিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অতীতের এসব জালিয়াতির ঘটনাও রহস্যজনক কারণে বিভাগীয় পর্যায়েই ধামাচাপা পড়ে গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow