ইবির হলের পুকুর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজ হল সংলগ্ন পুকুর থেকে এক শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেই শিক্ষার্থীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসীর আরাফাত সাজ্জাদ। জানা গেছে, বৃষ্টিতে ভিজে দুই বন্ধু (ইউসুফ আর সাজ্জাদ) পুকুরে যায়। দুজনের সিদ্ধান্ত হয় সাঁতার কেটে পুকুরটি পার হবে। যথারীতি সাঁতার শুরু করলে মাঝপথে ডুবে যায় এক বন্ধু (সাজ্জাদ)। আরেক বন্ধু (ইউসুফ) কোনো মতে অন্য পাড়ে গিয়ে দেখে সাজ্জাদ ডুবে যাচ্ছিল। তখন চিল্লাচিল্লি করলে ঘটনাস্থলের কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ইউসুফ বলেন, ‘আমি আর ও সাঁতার কেটে পার হওয়ার জন্য একসাথে পানিতে নেমেছিলাম। আমি ওকে আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু পানিতে নামার পর ও পিছিয়ে পড়ে আর আমি অর্ধেক পথ যেতেই প্রচণ্ড হাঁপ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজ হল সংলগ্ন পুকুর থেকে এক শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেই শিক্ষার্থীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসীর আরাফাত সাজ্জাদ।
জানা গেছে, বৃষ্টিতে ভিজে দুই বন্ধু (ইউসুফ আর সাজ্জাদ) পুকুরে যায়। দুজনের সিদ্ধান্ত হয় সাঁতার কেটে পুকুরটি পার হবে। যথারীতি সাঁতার শুরু করলে মাঝপথে ডুবে যায় এক বন্ধু (সাজ্জাদ)। আরেক বন্ধু (ইউসুফ) কোনো মতে অন্য পাড়ে গিয়ে দেখে সাজ্জাদ ডুবে যাচ্ছিল। তখন চিল্লাচিল্লি করলে ঘটনাস্থলের কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ইউসুফ বলেন, ‘আমি আর ও সাঁতার কেটে পার হওয়ার জন্য একসাথে পানিতে নেমেছিলাম। আমি ওকে আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু পানিতে নামার পর ও পিছিয়ে পড়ে আর আমি অর্ধেক পথ যেতেই প্রচণ্ড হাঁপিয়ে যাই। কোনোমতে শ্বাস নিয়ে ভেসে ভেসে অন্য পাড়ের কাছাকাছি পৌঁছালেও পায়ে দেওয়ার মতো কোনো মাটি পাচ্ছিলাম না। এমন সময় ও পিছন থেকে ডেকে বলল, ইউসুফ, আমি পারছি না, আমাকে একটু নিয়ে যাও।’
ওর ডাক শুনে আমি প্যানিক হয়ে যাই এবং ওকে বাঁচাতে পিছনে ফিরতে গিয়ে আমার মুখে পানি ঢুকে যায়। আর না পেরে বাধ্য হয়ে আমি পাড়ে ফিরে আসি এবং চিৎকার করে সবাইকে ওকে বাঁচাতে বলি। পাড়ের একজন ওরে ধরতে যাওয়ার আগেই চোখের সামনে ও পানিতে ডুবে যায়। আমি দিশাহারা হয়ে হাতের কাছে কিছু না পেয়ে নিজের শার্টটা খুলে ওরে উদ্ধারের শেষ একটা চেষ্টা চালাই। পরে পাড়ের শিক্ষার্থীরা এসে ওকে উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।’
চিকিৎসক ডা. জাকিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসিরকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সম্পূর্ণ অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। পেটের নিচে বালিশ দিয়ে চাপ দিয়ে পেট থেকে পানি বের করা হয়েছে। তারপরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। আমাদের এখানে ফার্স্ট এইড কিট ছাড়া উন্নত মানের যন্ত্রপাতি না থাকায় এবং ওর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখন আপাতত আশঙ্কা মুক্ত আছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের এই পুকুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর থেকেই শিক্ষার্থীদের এই পুকুরে নামার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
What's Your Reaction?