‘ইমন ছিল আমাদের ঘরের খুঁটি, এখন বাবাকে কী জবাব দেবো’

মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন ইমন আচার্য (২৬)। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর পুরো পরিবারের ভরসা হয়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু একটি নির্মম ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থমকে গেল সব স্বপ্ন। সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে নিহত হয়েছেন র‍্যাব-৯ এর সদস্য (কনস্টেবল) ইমন আচার্য। ময়নাতদন্ত শেষে তার নিথর দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রোববার (২৪ মে) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যার ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) সকালে নিহতের বড় ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পী (২২)-কে। শনিবার বিকেলেই বাপ্পীকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

‘ইমন ছিল আমাদের ঘরের খুঁটি, এখন বাবাকে কী জবাব দেবো’

মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন ইমন আচার্য (২৬)। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর পুরো পরিবারের ভরসা হয়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু একটি নির্মম ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থমকে গেল সব স্বপ্ন। সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে নিহত হয়েছেন র‍্যাব-৯ এর সদস্য (কনস্টেবল) ইমন আচার্য।

ময়নাতদন্ত শেষে তার নিথর দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

রোববার (২৪ মে) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যার ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) সকালে নিহতের বড় ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পী (২২)-কে।

শনিবার বিকেলেই বাপ্পীকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিহত ইমনের বড় ভাই সুজিত আচার্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালবেলাকে বলেন, আমাদের পরিবারে মোট সাতজন সদস্য। বাবা আগে পুলিশে চাকরি করতেন, কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি পঙ্গু হয়ে বিছানায়। ইমন শুধু আমার ছোট ভাই ছিল না, সে ছিল আমাদের ঘরের খুঁটি। এখন আমার অসুস্থ বাবাকে কী বলব? আমার ভাইয়ের সদ্যবিধবা স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো?

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে ইমনের ফুসফুস ও হার্টসহ তিনটি স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে ছিদ্র করা হয়েছে। সুজিত আচার্য ভাইয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

যেভাবে ঘটল এই নির্মম হত্যাকাণ্ড

কোতোয়ালি থানা-পুলিশ জানায়, গত ২২ মে (শুক্রবার) দুপুরে থানা সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীকে ধাওয়া করে পুলিশ। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য পুলিশকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান। তিনি ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে জাপটে ধরলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী তার বুকে ও পিঠে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইমন।

হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানার একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধারসহ রক্তমাখা ছুরিসহ বাপ্পীকে আটক করা হয়।

র‍্যাব-৯ এর অধিনায়ক (সিও) উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী শনিবার রাতে কালবেলাকে বলেন, ইমন আচার্য বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনার পর আমরা এসএমপির (সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ) সঙ্গে যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গত রাত পর্যন্ত ৪৪ জন ছিনতাইকারী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করেছি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দ্রুত বিচার আইনে এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। এছাড়া নিহত ইমনকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়েছে। র‍্যাবের ফ্রিজার ভ্যানে করে তার মরদেহ এবং স্বজনদের আলাদা গাড়িতে করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। র‍্যাব সবসময় এই বীর সদস্যের পরিবারের পাশে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow