ইরানের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের প্রথম মিশন সম্পন্ন

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত দূরপাল্লার অভিযানের জন্য তৈরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিচালিত যুদ্ধজাহাজ শহিদ মাহদাভি আন্তর্জাতিক মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।   সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহের নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।  ৫৭ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এক সমুদ্রযাত্রা শেষে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় ফিরে আসা জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি। স্বাগত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে যাত্রা করতে প্রস্তুত।  আইআরজিসি নৌবাহিনীর এই বহুমুখী যুদ্ধজাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নেয়। এই অংশগ্রহণকে আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের নৌ উপস্থিতি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় অর্ধেক পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত এই দীর্ঘমেয়াদি মিশনে অংশ নিয়ে

ইরানের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের প্রথম মিশন সম্পন্ন

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত দূরপাল্লার অভিযানের জন্য তৈরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিচালিত যুদ্ধজাহাজ শহিদ মাহদাভি আন্তর্জাতিক মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।  

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহের নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

৫৭ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এক সমুদ্রযাত্রা শেষে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় ফিরে আসা জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি। স্বাগত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে যাত্রা করতে প্রস্তুত। 

আইআরজিসি নৌবাহিনীর এই বহুমুখী যুদ্ধজাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নেয়। এই অংশগ্রহণকে আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের নৌ উপস্থিতি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় অর্ধেক পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত এই দীর্ঘমেয়াদি মিশনে অংশ নিয়ে শহিদ মাহদাভি সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করতে সফল হয়েছে। এটি আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সমুদ্রে পাঠানো অষ্টম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে জায়গা করে নিলো। জাহাজটি ইরানের ১০৩তম নৌবহরের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ নটিক্যাল মাইল অর্থাৎ প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই নৌবহরে ইরানি সেনাবাহিনীর শহিদ নাকদি ডেস্ট্রয়ার এবং মাকরান ফরোয়ার্ড বেস জাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মিশনটির মধ্য দিয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো দক্ষিণ গোলার্ধে এবং একই সঙ্গে আটলান্টিক মহাসাগরে নৌ অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করল। ২ হাজার ১০০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ মিটার। এটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আইআরজিসির নৌবহরে যুক্ত হয়। জাহাজটি একটি ভাসমান নৌঘাঁটি হিসেবেও কাজ করতে সক্ষম।

শহিদ মাহদাভিতে রয়েছে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা। পাশাপাশি এটি বিপুল সংখ্যক নজরদারি ও আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন বহনে সক্ষম।

যুদ্ধজাহাজটিতে ত্রিমাত্রিক ফেজড অ্যারে রাডার, সমুদ্র থেকে সমুদ্র এবং সমুদ্র থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া এই মহাসাগরগামী যুদ্ধজাহাজটি বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার, যুদ্ধ ড্রোন এবং দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বহনে সক্ষম। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow