ইরান যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত

মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট।  যুদ্ধে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে।  তবে জয়-পরাজয় নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, যুদ্ধে যে দুপক্ষেরই ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে নেই কোনো তর্ক। প্রায় দেড় মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে অস্ত্র, সেনা, বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি অনেক অবকাঠামোগত স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন সংকট, যার প্রভাব শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।  হাজারো স্থাপনায় হামলা যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ১,০০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। একই সময়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী আরও ৭৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। পরবর্তীতে হামলার গ

ইরান যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত

মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট। 

যুদ্ধে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে। 

তবে জয়-পরাজয় নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, যুদ্ধে যে দুপক্ষেরই ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে নেই কোনো তর্ক। প্রায় দেড় মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে অস্ত্র, সেনা, বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি অনেক অবকাঠামোগত স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন সংকট, যার প্রভাব শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। 


হাজারো স্থাপনায় হামলা

যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ১,০০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। একই সময়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী আরও ৭৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

পরবর্তীতে হামলার গতি কিছুটা কমলেও ২৬ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১০,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এপ্রিল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩,০০০-এর বেশি। এছাড়া ১৫৫টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের নৌবাহিনীর ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ২৫০ জনের বেশি ইরানি নেতাকে হত্যা করেছে বলে জানানো হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।

বিপুল সামরিক ব্যয় ও ক্ষতি 

যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার। শুধু প্রথম তিন সপ্তাহেই ক্ষয়ক্ষতির খরচ দাঁড়িয়েছে ১.৪ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলার।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। এছাড়া উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি এমসি-১৩০ বিমান ধ্বংস করতে হয়, প্রতিটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। ইরান দাবি করেছে, তারা দুটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ধ্বংস করেছে। 

১৩ বিলিয়ন ডলারের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে আগুন লাগার ঘটনায় সেটিকে মেরামতের জন্য গ্রিসে পাঠানো হয়।


ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

যুদ্ধের শুরুতে ইরান ১০০ ঘণ্টার মধ্যে ৫০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২,০০০-এর বেশি ড্রোন ছোড়ে। বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দিনে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে।

এই যুদ্ধে অন্তত ১৬টি দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। 


মানবিক বিপর্যয়

ছয় সপ্তাহে মোট প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৫,৩৭২ জন। এর মধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩,৩৬৩ জন, যার মধ্যে ১,৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং অন্তত ২৫৪ জন শিশু।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছাত্রী। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ১,৫৩০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২৯ জন শিশু। 

মার্চের শেষে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow