ইসরায়েলকে শাস্তি দিলো ফিফা

ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘ ১৮ মাসব্যাপী চলা এক আইনি লড়াইয়ের রায় ঘোষণা করেছে ফিফা। ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের (পিএফএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) আর্থিক জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে নির্দিষ্ট শর্ত দিলেও সদস্যপদ স্থগিতের মতো কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংস্থাটি। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা। সংস্থাটির শৃঙ্খলা কমিটি তাদের রায়ে জানায়, ইসরায়েল ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো ছিল: বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আচরণ, ফুটবলের ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিমালা লঙ্ঘন ও আপত্তিকর আচরণ। ফিলিস্তিনের মূল অভিযোগ ছিল, পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে অবস্থিত ক্লাবগুলোকে ইসরায়েল তাদের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিচ্ছে, যা ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশনের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপ। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ফিফা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে শাস্তি দিলো ফিফা

ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘ ১৮ মাসব্যাপী চলা এক আইনি লড়াইয়ের রায় ঘোষণা করেছে ফিফা। ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের (পিএফএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) আর্থিক জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে নির্দিষ্ট শর্ত দিলেও সদস্যপদ স্থগিতের মতো কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংস্থাটি।

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা। সংস্থাটির শৃঙ্খলা কমিটি তাদের রায়ে জানায়, ইসরায়েল ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো ছিল: বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আচরণ, ফুটবলের ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিমালা লঙ্ঘন ও আপত্তিকর আচরণ।

ফিলিস্তিনের মূল অভিযোগ ছিল, পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে অবস্থিত ক্লাবগুলোকে ইসরায়েল তাদের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিচ্ছে, যা ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশনের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপ। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ফিফা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইন অত্যন্ত জটিল ও অনির্ধারিত। তাই এই মুহূর্তে এই বিশেষ ইস্যুতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ফিফার পক্ষে সম্ভব নয়।

ফিফা কেবল জরিমানা করেই দায় সারেনি। জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বৈষম্যবিরোধী বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলকে একটি পূর্ণ মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়াম ও সরকারি মাধ্যমে বর্ণবাদবিরোধী প্রচার এবং সংস্কার কার্যক্রম চালাতে হবে, যা সরাসরি ফিফা তদারকি করবে।

গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র চলাকালীন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মন্তব্য করেছিলেন যে, ভূরাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা ফিফার কাজ নয়। তবে তিনি ফুটবলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শান্তি ও সেতুবন্ধন তৈরির প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিফার বিচারকদের মতে, ফুটবলকে শান্তি, সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই টিকিয়ে রাখতে হবে।

এসকেডি/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow