ইসরায়েলের বিমান হামলায় অধরা ‎থেকে গেল নাহিদের স্বপ্ন

‎পরিবারকে সুস্থ ও সচ্ছল রাখার বুক ভরা আশা নিয়ে মাত্র দুমাস আগে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সুদূর লেবাননের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু কে জানতো দুমাসের মাথায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় চিরদিনের জন্য অধরা থেকে যাবে নাহিদের স্বপ্ন। আর কোনোদিন ফেরা হবে না বাবা-মায়ের কোলে।  ‎লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব শ্রম ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত শোক বার্তায় জানা গেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদের ও নুরুন্নাহার খাতুন দম্পতির সন্তান মো. নাহিদুল ইসলাম লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ে যেব্দীন এলাকায় বাসায় অবস্থানকালে গতকাল ১১ মে দুপুর ১২টার দিকে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। বর্তমানে তার মরদেহ নাবতিয়ের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।  ‎ ‎অন্যদিকে আকস্মিক মৃত্যুর খবরে নাহিদের জন্মভূমি কাদাকাটি গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার জুড়ে চলছে সন্তান হারানোর মাতম।  ‎রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত নাহিদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, মাত্র দুমাস আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ

ইসরায়েলের বিমান হামলায় অধরা ‎থেকে গেল নাহিদের স্বপ্ন

‎পরিবারকে সুস্থ ও সচ্ছল রাখার বুক ভরা আশা নিয়ে মাত্র দুমাস আগে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সুদূর লেবাননের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু কে জানতো দুমাসের মাথায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় চিরদিনের জন্য অধরা থেকে যাবে নাহিদের স্বপ্ন। আর কোনোদিন ফেরা হবে না বাবা-মায়ের কোলে। 

‎লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব শ্রম ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত শোক বার্তায় জানা গেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদের ও নুরুন্নাহার খাতুন দম্পতির সন্তান মো. নাহিদুল ইসলাম লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ে যেব্দীন এলাকায় বাসায় অবস্থানকালে গতকাল ১১ মে দুপুর ১২টার দিকে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। বর্তমানে তার মরদেহ নাবতিয়ের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। 

‎অন্যদিকে আকস্মিক মৃত্যুর খবরে নাহিদের জন্মভূমি কাদাকাটি গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার জুড়ে চলছে সন্তান হারানোর মাতম। 

‎রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত নাহিদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, মাত্র দুমাস আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পরিবারের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানোর অদম্য ইচ্ছা নিয়ে লেবাননের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান নাহিদ। নাহিদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে মরদেহ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি ঋণের বোঝা পরিশোধের বিষয়টিও ভাবিয়ে তুলছে।

‎নিহত নাহিদের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নাহিদ ছিল সবার বড়। পারিবারিকভাবে আমরা অসচ্ছল থাকার কারণে নাহিদ বিদেশ যেতে চাইত। কিন্তু বহুবার আমি বাধা দিয়েছি, তাছাড়া অর্থ জোগাড় করে উঠতে পারিনি। এবার অনেক চাপাচাপির পর ঋণ ধারদেনা করে ছেলেকে লেবাননে পাঠালাম। কিন্তু কে জানত আমার ছেলে আর বেঁচে ঘরে ফিরবে না।

‎নাহিদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার গ্রামের বাড়িতে যান আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

‎এ সময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, আমরা নাহিদের মরদেহ যাতে তার পরিবারের কাছে পৌঁছায় সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমরা এখানে এসে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে যতটুকু সম্ভব হয় সরকারিভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow