ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

এস আলম গ্রুপের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তুলে ইসলামী ব্যাংককে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।  বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। প্রবাসী আয় সংগ্রহ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন, শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তবে অতীতে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রক্সি পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে ঋণ জালিয়াতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিশেষ সুবিধা প্রদান, সুশাসনের অবক্ষয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংকটি গভীর সংকটে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অডিট তথ্

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

এস আলম গ্রুপের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তুলে ইসলামী ব্যাংককে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। প্রবাসী আয় সংগ্রহ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন, শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

তবে অতীতে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রক্সি পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে ঋণ জালিয়াতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিশেষ সুবিধা প্রদান, সুশাসনের অবক্ষয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংকটি গভীর সংকটে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অডিট তথ্য অনুযায়ী এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছে। এতে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের স্বার্থে ঋণনীতি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হওয়ায় ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতই ঝুঁকির মুখে পড়ে।

২০২৪ সালের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির পুনরুদ্ধারের আশা তৈরি হলেও বর্তমানে আবারও ওই গোষ্ঠী বা তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন আমানতকারীরা। তাদের ভাষ্য, এমনটি ঘটলে শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও আস্থার সংকট তৈরি হবে।

গভর্নরের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে আমানতকারীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের ব্যাংকে পুনঃপ্রবেশ বন্ধ করা, পাচার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত আইনি সুবিধা বাতিল করা।

তারা বলেন, একটি ব্যাংকের মূল ভিত্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। অতীতে যাদের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে, তাদের পুনরাগমনের আশঙ্কা দেখা দিলে আমানত উত্তোলন বাড়বে এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্মারকলিপিতে গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি দেশের কোটি গ্রাহক এবং অর্থনীতির আস্থার প্রতীক। তাই ব্যাংকটিকে অপশক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা করে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ইএআর/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow