ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্যোগ

ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষ প্রতিরোধে ৩৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকার।  শনিবার (১৮ জুলাই) বিশেষ দূত আফতাব মালিকের প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, জনসচেতনতা, নিরাপত্তা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ মুসলিম নেতারা। ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ দূত আফতাব মালিকের প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে মোট ৫৪টি সুপারিশ থাকলেও সরকার প্রথম ধাপে ৩৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ দূত আফতাব মালিক বলেন, সরকারের ঘোষণায় ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে উদ্যোগ, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ১৫ মার্চের সন্ত্রাসী হামলার স্বীকৃতি, মসজিদসহ মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, ঘৃণাজনিত অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা উন

ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্যোগ

ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষ প্রতিরোধে ৩৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকার। 

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশেষ দূত আফতাব মালিকের প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, জনসচেতনতা, নিরাপত্তা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ মুসলিম নেতারা।

ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ দূত আফতাব মালিকের প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে মোট ৫৪টি সুপারিশ থাকলেও সরকার প্রথম ধাপে ৩৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ দূত আফতাব মালিক বলেন, সরকারের ঘোষণায় ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে উদ্যোগ, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ১৫ মার্চের সন্ত্রাসী হামলার স্বীকৃতি, মসজিদসহ মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, ঘৃণাজনিত অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা উন্নত করা, মুসলিম নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত সহায়তা এবং অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।

সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমে ধর্মীয় ও জাতিগত সহনশীলতা জোরদার, বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন অনুদান কর্মসূচি চালু, মুসলিম নারীদের জন্য অতিরিক্ত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং পুলিশ বাহিনীতে কমিউনিটি লিয়াজোঁ টিম সম্প্রসারণ। এছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, বৈষম্য প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে।

তবে প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পুনর্বিবেচনার যে সুপারিশ করা হয়েছিল, তা সরকার গ্রহণ করেনি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এদিকে সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যালায়েন্স অব অস্ট্রেলিয়ান মুসলিমস (এএএম) এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি)। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি বলেছে, ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে ঘোষণার পাশাপাশি সুপারিশগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে তারা।

সংগঠন দুটি জানায়, বাস্তব পরিবর্তন আনতে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব সুপারিশের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার ও বিশেষ দূতের কার্যালয়ের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানরা বৈষম্য, বিদ্বেষ, হয়রানি, হুমকি এবং কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক হামলার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীরা প্রকাশ্যে হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটি সংগঠনও বিভিন্ন সময় হুমকি ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার শিকার হয়েছে।

বিশেষ দূত আফতাব মালিক সরকারের প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে আরও বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এটি কেবল শুরু। ইসলামোফোবিয়ার সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত কারণ দূর করতে আরও কার্যকর আইনগত সুরক্ষা এবং বাকি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন। তার ভাষায়, আজকের ঘোষণা এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের সূচনা।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow