ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুলের নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের অযোগ্য ঘোষণা এবং ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ ইসি সচিবালয়ে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিও করেছে দলটি। বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।  এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।  বৈঠকে সিইসি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টার পরে।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্

ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুলের নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের অযোগ্য ঘোষণা এবং ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ ইসি সচিবালয়ে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিও করেছে দলটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। 

বৈঠকে সিইসি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টার পরে।  

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে কমিশনের সঙ্গে জামায়াত বৈঠক করেছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গত ৩০ জুন ইসিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ নতুন করে আরও দুটো নতুন প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

আজকের বৈঠকে চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি সামসুল আলমকে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক ব্যক্তির নিয়োগ যেকোনো নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে অন্তরায় এবং বাধা। সামসুল আলম বিএনপির নির্বাচনি আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন, তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারছি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী জায়গায় রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিকে ইসির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি সরকারি দলের লোকদের স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী করে নিয়ে আসতে পারেন। সেই কাজটা উনি যেন এখানে বসে করতে পারেন, সেই তৎপরতার জন্যই তাকে এখানে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসি তাদের বলেছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তারা জানতেন না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সামসুল আলমের নিয়োগে ইসি আপত্তি জানাতে পারত উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, কথার ভেতর দিয়ে তো উনারা উনাদের অসহায়ত্বের কথা, অক্ষমতার কথা, অপারগতার কথাই আলটিমেটলি উনাদের কথায় ফুটে উঠেছে। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণায় ইসির প্রস্তাবের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। 

ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুলের নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুদীর্ঘ ইতিহাসে স্কুল-কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন। জাতীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের লোকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। তারা তো ইলেকশন করছেন। একটা ইলেকশন করতে পারবে, আরেকটা পারবে না। তো এই যে একটা বৈষম্য, সংবিধানে নাগরিক অধিকারের খেলাপ। ইসি জানিয়েছে বিষয়টি আলোচনা করে দেখবে।  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পদদারী নেতাদের প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনীতির নিষিদ্ধতা থাকলে ব্যক্তি যেহেতু রাজনীতি করে, ব্যক্তির নির্বাচন করাটাও একটা রাজনীতি। ফলে পদ-পদবিধারী নিষিদ্ধ দলের কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণকেও অযোগ্য এবং নিষিদ্ধ করতে হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। 

গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে। কারণ এরকম স্থানীয় সরকারের পদে থেকে দুই-পাঁচ-দশ মাস সার্ভ করে সাথে সাথে ইলেকশনে ক্যান্ডিডেট হওয়া মানেই হচ্ছে যে এই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ হতে দেওয়া হলো না। দলীয়করণের জন্যই তাকে এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচন একেবারে দিব্বি এটা একটা দলীয় নির্বাচন হবে, পক্ষপাতিত্ব হবে, এটা নিরপেক্ষ হবে না, স্বচ্ছ হবে না।

স্থানীয় সরকারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা নানান বক্তব্য দিচ্ছে দাবি করে সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-মিনিস্টাররা একেক সময় তারিখও ঘোষণা করে দিচ্ছেন। তাও আবার একরকম বলেন না। কেউ জানুয়ারি বলেন, ফেব্রুয়ারি বলেন, কেউ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর বলেন।’ 

সুপ্রিম কোর্টে রায় ঘোষণার দিনই চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের গেজেট প্রকাশে ইসির সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রেসারের মুখে আপনারা দুই-চার ঘণ্টার মধ্যে স্বাক্ষর করা আদেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেননি। আপনারা একটা গেজেট জারি করে দিয়ে শপথের ব্যবস্থা করে দিলেন—পলিটিক্যাল প্রেসারে ছিলেন। তো উনাদের কথাবার্তায় তো আর ওই ভাষায় তো আর স্বীকার করবেন না, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বোঝা যায় যে তারা আন্ডার প্রেসারে এটা করতে বাধ্য হয়েছেন। তো জাস্ট এই সমস্ত বিষয়গুলো—হ্যাঁ এগুলো খুবই অস্বাভাবিক।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসি যে স্বাধীন, সাংবিধানিক একটা বিরাট ক্ষমতাধীন একটা সাংবিধানিক সংস্থা, বিরাট ক্ষমতাসম্পন্ন এবং দেশের নিরপেক্ষ নির্বাচনের একটা বিরাট ক্ষমতা তাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তারা এ ব্যাপারে যে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। আমরা বিনয়ের সঙ্গে সে ব্যাপারে তাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

সাতক্ষীরা-৪ নিয়ে সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক 

ইসির সঙ্গে বুধবারের বৈঠকে নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্য পদ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে জানান জামায়াত নেতা। এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা স্পিকার ও ইসির কাছে চিঠি দিয়েছি। আমাদের দিক থেকে দল থেকে বহিষ্কার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। সদস্য পদের বিষয়টি সাংবিধানিক। এটা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি আজ।’

সংশোধনী ও দুঃখপ্রকাশ

নিউজটির সঙ্গে ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের বদলে ভুলবশত সিনিয়র সচিব শামসুল আলমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল। ভুলটি ধরার পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিনিয়র সচিব শামসুল আলমের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

এমওএস/এমএমএআর 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow