ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে
পবিত্র ঈদুল ফিতরে মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। টার্মিনালগুলোতে র্যাব, পুলিশ, বিআরটিএ ও ভোক্তা অধিকারের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ক্যাম্প বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে (ইতোমধ্যে একজনকে সাজাও দেওয়া হয়েছে)। এর মাঝেই \'যাত্রী কল্যাণ সমিতি\' নামের একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন কোনো তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণা ছাড়াই ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কল্পিত অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংগঠনটির প্রেস রিলিজে কোনো ভুক্তভোগীর নাম-ঠিকানা বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, উল্টো সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, বছরের অন্য সময়ে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকায় যাতায়াত করলেও ঈদে যাত্রীর চাপ থাকায় বিআরটিএ নির্ধারিত পূর্ণ ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হয়। এছাড়া, অনেক সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট না পেয়ে যাত্রীরা নিজ উদ্যোগেই দ্রুত যাওয়ার জন্য দূরবর্তী গন্তব্যের টিকিট কিনে মাঝপথে নামেন। এই বিষয়গুলোকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বলে মনগড়া অপপ্রচার
পবিত্র ঈদুল ফিতরে মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। টার্মিনালগুলোতে র্যাব, পুলিশ, বিআরটিএ ও ভোক্তা অধিকারের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ক্যাম্প বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে (ইতোমধ্যে একজনকে সাজাও দেওয়া হয়েছে)।
এর মাঝেই 'যাত্রী কল্যাণ সমিতি' নামের একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন কোনো তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণা ছাড়াই ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কল্পিত অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংগঠনটির প্রেস রিলিজে কোনো ভুক্তভোগীর নাম-ঠিকানা বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, উল্টো সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যাচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, বছরের অন্য সময়ে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকায় যাতায়াত করলেও ঈদে যাত্রীর চাপ থাকায় বিআরটিএ নির্ধারিত পূর্ণ ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হয়। এছাড়া, অনেক সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট না পেয়ে যাত্রীরা নিজ উদ্যোগেই দ্রুত যাওয়ার জন্য দূরবর্তী গন্তব্যের টিকিট কিনে মাঝপথে নামেন। এই বিষয়গুলোকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বলে মনগড়া অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এই মিথ্যা ও বানোয়াট বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, সংগঠনটির জনৈক মোজাম্মেল হক ব্যক্তিগত প্রচারণার লোভে এবং সরকার ও পরিবহন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই চটকদার সংবাদ ছড়িয়েছেন। এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে এবং মনগড়া সংবাদের প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ আজ বেলা তিনটায় একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন।
সচেতন মহল ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ছাড়া এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতই নয়, বরং যারা দিনরাত পরিশ্রম করে ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করছেন, তাদের মনোবল ভাঙার একটি সুকৌশলী অপচেষ্টা। তাই ঈদের মতো সংবেদনশীল সময়ে এমন অসত্য খবর প্রচারের প্রকৃত উদ্দেশ্য তদন্ত করে, এই ধরনের ভুঁইফোঁড় সংগঠন ও গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
এইচআর/এমএস
What's Your Reaction?