ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আহ্ছানিয়া মিশনের ৯ সুপারিশ
প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মহাসড়কগুলোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যা বহু প্রাণ কেড়ে নেয়। ঈদযাত্রায় সড়কে বেপরোয়া হয়ে ওঠে যানবাহন। বাসের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে সড়কে ছুটে চলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। অসতর্কভাবে চলে পথচারি। ঈদে প্রতিবারই সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারাদেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হয়। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ দিনে ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি নিহত হয় বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়। সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত দেশে কোনো আইন ও এর প্রয়োগ নেই; নেই কোনো উপযুক্ত সিস্টেম এবং নেই কোনো দায়বদ্ধতা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এবারের ঈদেযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ৯ সুপারিশ দিয়েছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের সম
প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মহাসড়কগুলোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যা বহু প্রাণ কেড়ে নেয়। ঈদযাত্রায় সড়কে বেপরোয়া হয়ে ওঠে যানবাহন। বাসের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে সড়কে ছুটে চলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। অসতর্কভাবে চলে পথচারি।
ঈদে প্রতিবারই সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারাদেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হয়।
২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ দিনে ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি নিহত হয় বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত দেশে কোনো আইন ও এর প্রয়োগ নেই; নেই কোনো উপযুক্ত সিস্টেম এবং নেই কোনো দায়বদ্ধতা।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে এবারের ঈদেযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ৯ সুপারিশ দিয়েছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এক সংবাদ সম্মেলনে এই সুপারিশ তুলে ধরে।
সুপারিশগুলো হলো
১) বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয় অতিরিক্ত গতির কারণে। তাই সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে এই সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন অতিসত্তর প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
২) মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী উভয়েরই ঈদে চলাচলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৩) সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
৪) চালকদের কর্মঘণ্টা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। যেন ঈদযাত্রায় চালকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়। কারণ ক্লান্ত চালক যেমন নিজের জীবনের ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি যাত্রীদের জন্যও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
৫) ঈদযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টেম্পুসহ সকল প্রকার ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও ভটভটি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
৬) মদ বা নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে যেন গাড়ি না চালায় সেদিকে কঠোর নজরদাতি রাখতে হবে এবং এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে।
৭) পরিবহনের পাশাপাশি পথচারি পারাপার ও তাদের নিরাপদে চলাচলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮) সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে।
৯) বিশ্বব্যাপী সমাদৃত সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের আদলে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই সড়কে মৃত্যুর মিছিল হ্রাস পাবে এবং সকল সড়ক ব্যবহারকারী ঈদের মত বিভিন্ন উৎসব নিরাপদে পরিবারের সাথে উদযাপন করতে পারবে।
টিটি/এমআরএম
What's Your Reaction?