ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম-নিয়ত

ইসলামি শরিয়তে ঈদুল ফিতরের নামাজ ওয়াজিব। এই নামাজে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির বলা হয় এবং তা জামাতে আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে নিয়ত করার পদ্ধতি, নামাজের ধাপগুলো কীভাবে সম্পন্ন করতে হয়, কোন সুরা পড়া সুন্নত এবং কেরাত কীভাবে আদায় করতে হয়—এসব বিষয় জানা থাকলে ঈদের নামাজ আরও সুন্দর ও শুদ্ধভাবে আদায় করা সম্ভব হয়। তাই নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, কেরাত এবং এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধানগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো— ঈদুল ফিতিরের নামাজের নিয়ত মনের ইচ্ছাই নিয়ত। ঈদুল ফিতরের নামাজে দাঁড়ানোর সময় আমাদের স্মরণে থাকে, আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি, এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। এই নিয়তের সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ‘ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং এ নামাজে ছয় তাকবির আছে।’ এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায়ের নিয়ত করছি।’ তারপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবি নিয়ত করা বা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যকীয় নয়। প্রচলিত আরবি নিয়তটি হলো, نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ

ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম-নিয়ত

ইসলামি শরিয়তে ঈদুল ফিতরের নামাজ ওয়াজিব। এই নামাজে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির বলা হয় এবং তা জামাতে আদায় করা হয়।

এ ক্ষেত্রে নিয়ত করার পদ্ধতি, নামাজের ধাপগুলো কীভাবে সম্পন্ন করতে হয়, কোন সুরা পড়া সুন্নত এবং কেরাত কীভাবে আদায় করতে হয়—এসব বিষয় জানা থাকলে ঈদের নামাজ আরও সুন্দর ও শুদ্ধভাবে আদায় করা সম্ভব হয়।

তাই নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, কেরাত এবং এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধানগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—

ঈদুল ফিতিরের নামাজের নিয়ত

মনের ইচ্ছাই নিয়ত। ঈদুল ফিতরের নামাজে দাঁড়ানোর সময় আমাদের স্মরণে থাকে, আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি, এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। এই নিয়তের সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ‘ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং এ নামাজে ছয় তাকবির আছে।’

এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায়ের নিয়ত করছি।’ তারপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবি নিয়ত করা বা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যকীয় নয়।

প্রচলিত আরবি নিয়তটি হলো, نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলা অর্থ : আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি আল্লাহু আকবার।

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদুল ফিতিরের নামাজ দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।

প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত শেষ করবে।

দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)

কেরাত

ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে ‘সুরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা গাশিয়াহ’ বা প্রথম রাকাতে ‘সুরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা কমার’ পড়া সুন্নত। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে এ সুরাগুলো পড়তেন। তবে অন্য যে কোনো সুরাও পড়া যেতে পারে। (মুসলিম : ৮৭৮, সুনানে নাসায়ী : ১৫৬৭, কিতাবুল আছল : ১/৩২১, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৫০০)

কেরাত কীভাবে পড়বে?

জুমার নামাজের ন্যায় ঈদের নামাজের কেরাতও উচ্চৈঃস্বরে পড়া ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদ ও ইস্তেসকার নামাজে কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন (সুনানে দারাকুতনী : ১৮০৩, জামে সগীর : পৃ. ১১৪)। তাই ইমাম সাহেব উভয় রাকাতেই কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন।

উল্লেখ্য, কখনো কখনো দেরি হয়ে যাওয়া, ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা কিংবা অন্য কোনো কারণে কারো ঈদের নামাজ ছুটে যেতে পারে।

তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঈদের নামাজ কি পরে কাজা করে আদায় করা যাবে? নাকি এর কোনো ভিন্ন বিধান রয়েছে?

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, ঈদের নামাজে কাজার বিধান নেই। তাই কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে সে আশপাশের অন্য কোনো ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটি সম্ভব না হলে তওবা-ইস্তেগফার করবে। (শরহু মুখতাসারিত তাহাবী : ২/১৬১, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৯৮, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৪)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow