ঈদের আগে রাজবাড়ীতে দোকানে মিষ্টি মজুতের ধুম

মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে পানি আসে না—এমন মানুষ মেলা ভার। আর সেটি যদি হয় সুস্বাদু, তাহলে তো কথাই নেই। ফলে গরুর খাঁটি দুধে তৈরি রাজবাড়ীর মিষ্টির সুখ্যাতি এখন দেশজুড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্ষীর চমচমসহ শত শত মণ মিষ্টি মজুত করছেন রাজবাড়ীর মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। এদিকে ক্ষীর চমচমের পাশাপাশি রাজবাড়ীতে তৈরি হাফসি, বরফি, কাঁচাছানা, ক্ষীর সন্দেশ, রোল সন্দেশ, মালাইকারি, প্যাড়া, কাটারিভোগ, লেডিকেনি, রসগোল্লা, রসমালাই, কালোজাম, স্পঞ্জ, চকলেট মিষ্টি, দইসহ বিভিন্ন পদের মিষ্টির সুনাম রয়েছে। সারা বছরই এসব মিষ্টির কদর থাকলেও ঈদ বা উৎসব-পার্বণে এর চাহিদা বেড়ে যায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ। ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে থাকে ক্ষীর চমচম। ক্ষীর চমচম একটু রসালো হয়। এর ওপর খাঁটি দুধের ছানায় তৈরি মাওয়ার শুকনো গুঁড়া একে আরও সুস্বাদু করে তোলে। ফলে এবারের ঈদে ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে আগে ভাগেই শত শত মণ মিষ্টি তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে রাজবাড়ীর কারখানাগুলোতে মিষ্টির উপকরণ প্রস্তুত ও মিষ্টি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। যেন দম ফেলার সময় ন

ঈদের আগে রাজবাড়ীতে দোকানে মিষ্টি মজুতের ধুম

মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে পানি আসে না—এমন মানুষ মেলা ভার। আর সেটি যদি হয় সুস্বাদু, তাহলে তো কথাই নেই। ফলে গরুর খাঁটি দুধে তৈরি রাজবাড়ীর মিষ্টির সুখ্যাতি এখন দেশজুড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্ষীর চমচমসহ শত শত মণ মিষ্টি মজুত করছেন রাজবাড়ীর মিষ্টি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ক্ষীর চমচমের পাশাপাশি রাজবাড়ীতে তৈরি হাফসি, বরফি, কাঁচাছানা, ক্ষীর সন্দেশ, রোল সন্দেশ, মালাইকারি, প্যাড়া, কাটারিভোগ, লেডিকেনি, রসগোল্লা, রসমালাই, কালোজাম, স্পঞ্জ, চকলেট মিষ্টি, দইসহ বিভিন্ন পদের মিষ্টির সুনাম রয়েছে। সারা বছরই এসব মিষ্টির কদর থাকলেও ঈদ বা উৎসব-পার্বণে এর চাহিদা বেড়ে যায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ।

ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে থাকে ক্ষীর চমচম। ক্ষীর চমচম একটু রসালো হয়। এর ওপর খাঁটি দুধের ছানায় তৈরি মাওয়ার শুকনো গুঁড়া একে আরও সুস্বাদু করে তোলে। ফলে এবারের ঈদে ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে আগে ভাগেই শত শত মণ মিষ্টি তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ঈদের আগে রাজবাড়ীতে দোকানে মিষ্টি মজুতের ধুম

বর্তমানে রাজবাড়ীর কারখানাগুলোতে মিষ্টির উপকরণ প্রস্তুত ও মিষ্টি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। শহরে বহু মিষ্টির দোকান থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি দোকানের মিষ্টি উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ভাদু সাহ, শংকর সাহ, মিষ্টি বাড়ি, হিরালাল, নয়া টেস্ট, হোসেন মিষ্টান্ন বেশি জনপ্রিয়। এসব দোকানে প্রতিদিনই বিক্রি হয় মণকে মণ মিষ্টি এবং ঈদ উপলক্ষে অনেক দোকানেই তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের শত শত মণ মিষ্টি।

খামার ও খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা গরুর খাঁটি দুধ দীর্ঘ সময় জ্বালিয়ে ছানায় রূপান্তর করে চমচমসহ বিভিন্ন মিষ্টি নানা পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এছাড়া কোনো কোনো মিষ্টি রসে ভিজিয়ে বা আগুনে জ্বালিয়েও তৈরি করা হয়।

মিষ্টি তৈরির কারিগররা বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তবে এখন আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন থাকায় মিষ্টি তৈরির কাজ অনেক সহজ হয়েছে। খাঁটি দুধ আগুনে জ্বালিয়ে ছানা ও মাওয়া তৈরি করে মিষ্টি তৈরি করি। এবার ঈদ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষীর চমচম তৈরি করছি। পাশাপাশি অনেক নতুন নতুন আইটেম তৈরি করছি।

ক্রেতা ইদ্রিস মিয়া ও বিপ্লব হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে রাজবাড়ীর মিষ্টির মান অনেক ভালো, খেতেও সুস্বাদু। বিশেষ করে এখানকার ক্ষীর চমচমের স্বাদ অতুলনীয়। এখানে অনেক দোকান থাকলেও কয়েকটি দোকানের মিষ্টির মান ভালো। ফলে নিজেদের ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নেওয়ার জন্য এই মিষ্টি কিনে নিয়ে যান।

ঈদের আগে রাজবাড়ীতে দোকানে মিষ্টি মজুতের ধুম

হিরালাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের সবুজ মজুমদার বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি মিষ্টি তৈরি করি। এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি মিষ্টি বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

মিষ্টিবাড়ির যোগেশ ঘোষ গৌর বলেন, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় রেখে এবার ক্ষীর চমচমসহ প্রায় ৫০ ধরনের দেড়শ মণ মিষ্টি তৈরি করছি। তবে এবার দুধের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করছি দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রাখতে। মূলত গ্রাম ও খামার থেকে খাঁটি দুধ সংগ্রহ করে মিষ্টি তৈরি করায় রাজবাড়ীর মিষ্টি খুবই সুস্বাদু হয়। এ কারণে সব সময় এখানকার মিষ্টির চাহিদা থাকে।

নির্মল মিষ্টান্ন ভান্ডারের পরিমল সাহা বলেন, বাবার (ভাদু সাহ) পেশার সুনাম বজায় রাখতে আমরা চেষ্টা করছি। রাজবাড়ীতে হাতেগোনা দুই-একটি দোকান ভালো মানের চমচম তৈরি করে। ভাদু সাহার দোকান বলতে সবাই চেনে। সেই সুবাদে আমরা এখনও তার সুনাম বজায় রেখে মিষ্টি তৈরি করছি। ফলে সারাবছরই একই রকম বিক্রি হয়। তবে ঈদের সময় চাহিদা বেড়ে যায়।

রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow