ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে মাংসের হাটে
‘সলিড মাংস পাঁচ কেজি। টাকা দিবেন পাঁচ হাজার। এক টাকা কমেও বেচুম না।’ ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান এলাকার সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার এই কথাগুলো আওড়াচ্ছিলেন দীন ইসলাম নামের এক যুবক। তার পায়ের সামনে মাংসভর্তি একটি বড় পলিথিনের ব্যাগ। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন কয়েকজন নারী-পুরুষ। উপস্থিত এক নারী একটু এগিয়ে এসে বললেন, ‘সাড়ে চার হাজার টাকা দিই, মাংসটা দিয়ে দেন ভাই।’ কিন্তু দীন ইসলাম তার সিদ্ধান্তে অটল। কারণ কী তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘুইরা মাংস টোকাইছি। এইবার মনে হয় কোরবানি কম হইছে। মানুষ এক-দুই টুকরার বেশি দেয় না। যা পাইছি তা থাইকা বাছাই করার পর সলিড পাঁচ কেজি মাংস হইছে। এ কারণে এক টাকা কমাইয়া বেচুম না।’ সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থান-সংলগ্ন সাবেক মেয়র হানিফ মসজিদের সামনের সড়কে তীব্র যানজট দেখে কারণ জানতে সামনে এগোতেই চোখে পড়েছিল দীন ইসলামের মাংস বিক্রির এই দৃশ্য। সেখানে ভিড় করেছিলেন কয়েকশ মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে সারাদিন ধরে সংগ্রহ করা মাংস ছোট-বড় পলিথিন ব্যাগে নিয়ে বিক্রির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। আর যারা সামর্থ্যের
‘সলিড মাংস পাঁচ কেজি। টাকা দিবেন পাঁচ হাজার। এক টাকা কমেও বেচুম না।’
ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান এলাকার সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার এই কথাগুলো আওড়াচ্ছিলেন দীন ইসলাম নামের এক যুবক। তার পায়ের সামনে মাংসভর্তি একটি বড় পলিথিনের ব্যাগ। তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন কয়েকজন নারী-পুরুষ।
উপস্থিত এক নারী একটু এগিয়ে এসে বললেন, ‘সাড়ে চার হাজার টাকা দিই, মাংসটা দিয়ে দেন ভাই।’ কিন্তু দীন ইসলাম তার সিদ্ধান্তে অটল। কারণ কী তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘুইরা মাংস টোকাইছি। এইবার মনে হয় কোরবানি কম হইছে। মানুষ এক-দুই টুকরার বেশি দেয় না। যা পাইছি তা থাইকা বাছাই করার পর সলিড পাঁচ কেজি মাংস হইছে। এ কারণে এক টাকা কমাইয়া বেচুম না।’
সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থান-সংলগ্ন সাবেক মেয়র হানিফ মসজিদের সামনের সড়কে তীব্র যানজট দেখে কারণ জানতে সামনে এগোতেই চোখে পড়েছিল দীন ইসলামের মাংস বিক্রির এই দৃশ্য। সেখানে ভিড় করেছিলেন কয়েকশ মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে সারাদিন ধরে সংগ্রহ করা মাংস ছোট-বড় পলিথিন ব্যাগে নিয়ে বিক্রির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। আর যারা সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি দিতে পারেননি তারা এখানে এসে ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য কিছু মাংস কেনার চেষ্টা করছিলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে মাংস সংগ্রহ করে বিক্রেতারা হাজির হয়েছিলেন এ ব্যতিক্রমধর্মী হাটে। কারও কাছে সলিড মাংস, কারও কাছে হাড়যুক্ত মাংস, আবার কেউ বিক্রি করছিলেন চর্বিযুক্ত মাংস। দরদাম মিলে গেলেই দেরি না করে মেশিনে মাংস মেপে দাম পরিশোধ করে চলে যাচ্ছিলেন ক্রেতারা। মানভেদে প্রতি কেজির দাম হাঁকা হচ্ছিল ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা।
সেখানে কথা হয় নার্গিস আক্তার নামের এক গৃহবধূর সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছেন। বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। ঈদের দিন সন্তানদের মুখে একটু মাংস তুলে দেওয়ার আশাতেই তিনি এসেছেন এই বাজারে।
কবরস্থানের সামনে কথা হয় আরেক ক্রেতার সঙ্গে। কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই তিনি বলেন, ‘সারাবছর মাংস খাওয়ার সামর্থ্য হয় না। কোরবানির ঈদের দিন যদি একটু মাংস না খাওয়াই তবে বাচ্চাদের মুখটা ছোট হয়ে থাকবে। এখান থেকে অল্প করে কিনলাম। অন্তত ঈদের রাতে পোলাও না হলেও ভাতের সঙ্গে একটু মাংস জুটবে।’
বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, সারাদিন কষ্ট করে মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা মাংস এক জায়গায় করে তারা কিছু টাকা পাওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে সংসারের দৈনন্দিন খরচ মেটানো যায়। অন্যদিকে যারা কিনতে আসছেন তারা বাজারের তুলনায় কম দামে কিংবা অল্প পরিমাণে মাংস কেনার সুযোগ খুঁজছিলেন।
এমইউ/একিউএফ
What's Your Reaction?