ঈদের আনন্দেও জন্মভূমির শূন্যতা রোহিঙ্গাদের মনে
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সকাল থেকে ঈদের জামাত, কোরবানি ও স্বজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় কাটান রোহিঙ্গারা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পে আনন্দ থাকলেও স্বজন ও জন্মভূমি হারানোর বেদনা এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় অনেক পরিবার কোরবানির মাংস পেয়েছেন। শিশুদের মধ্যেও ছিল আনন্দের আমেজ। তবে সব আনন্দের মাঝেও মিয়ানমারের রাখাইনে ফেলে আসা বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন ও স্বাভাবিক জীবনের স্মৃতি ভুলতে পারছেন না তারা। কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা নারী আসমা বেগম বলেন, এবারও ক্যাম্পে নিরাপদে ঈদ করেছি। কিন্তু নিজের দেশে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যে আনন্দে ঈদ করতাম, সেই আনন্দ এখানে নেই। সবসময় মনে হয় অতিথির মতো জীবন কাটাচ্ছি। একই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরে আলম বলেন, এখানে কোরবানির গরুর মাংস যতটুকু পেয়েছি, তাতে শুকরিয়া জানাই। তবে মিয়ানমারে নিজেরা একটি গরু কোরবানি দিতাম বা কয়েকজনে মিলে ভাগ করে কোরবানি করতাম। তিনি আরও বলেন, এখনো নিজের জমি, ঘরবাড়ি এবং গ্রামের মসজিদে ঈদের জামাতের কথা খুব মনে পড়ে। সম্মান
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সকাল থেকে ঈদের জামাত, কোরবানি ও স্বজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় কাটান রোহিঙ্গারা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পে আনন্দ থাকলেও স্বজন ও জন্মভূমি হারানোর বেদনা এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় অনেক পরিবার কোরবানির মাংস পেয়েছেন। শিশুদের মধ্যেও ছিল আনন্দের আমেজ। তবে সব আনন্দের মাঝেও মিয়ানমারের রাখাইনে ফেলে আসা বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন ও স্বাভাবিক জীবনের স্মৃতি ভুলতে পারছেন না তারা।
কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা নারী আসমা বেগম বলেন, এবারও ক্যাম্পে নিরাপদে ঈদ করেছি। কিন্তু নিজের দেশে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যে আনন্দে ঈদ করতাম, সেই আনন্দ এখানে নেই। সবসময় মনে হয় অতিথির মতো জীবন কাটাচ্ছি।
একই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরে আলম বলেন, এখানে কোরবানির গরুর মাংস যতটুকু পেয়েছি, তাতে শুকরিয়া জানাই। তবে মিয়ানমারে নিজেরা একটি গরু কোরবানি দিতাম বা কয়েকজনে মিলে ভাগ করে কোরবানি করতাম।
তিনি আরও বলেন, এখনো নিজের জমি, ঘরবাড়ি এবং গ্রামের মসজিদে ঈদের জামাতের কথা খুব মনে পড়ে। সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। ক্যাম্পের বর্তমান জীবন আর ভালো লাগছে না বলেও জানান তিনি।
টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা যুবক আবদুস সালাম বলেন, এখানে ঈদের আনন্দ সীমিত। কাজ নেই, ভবিষ্যৎ নেই। এরপরও পরিবারকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু মিয়ানমারে ফিরে স্বাধীনভাবে ঈদ করার স্বপ্ন এখনো বুকের মধ্যে আছে।
রোহিঙ্গা নারী জমিলা খাতুন বলেন, ক্যাম্পে সাহায্য পাই, খাবার পাই। কিন্তু জন্মভূমির মাটি তো আর পাওয়া যায় না। ঈদের দিনে পুরোনো স্মৃতি বেশি কষ্ট দেয়।
ক্যাম্পের কয়েকজন মাঝি জানান, বিভিন্ন সংস্থা ও দাতাদের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ক্যাম্পে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই মনে করছেন, মানবিক সহায়তা পেলেও নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের বিকল্প নেই। তাই ঈদের আনন্দের মাঝেও তাদের চোখে মুখে ছিল স্বদেশে ফেরার অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার।
উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ রফিকউল্লাহ বলেন, মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালে নিজ জন্মভূমি রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারিনি। এখানে ভালো-মন্দ মিলিয়ে জীবন কাটলেও দেশ ও জন্মভূমির আনন্দের স্বাদ পুরোপুরি পাওয়া যায় না। মর্যাদার সঙ্গে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপলের ঝুপড়ি ঘরে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করা খুবই কষ্টকর। দিন দিন পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু জীবনযাপনের সংকট কমছে না। ঈদ আমাদের আনন্দের মধ্যেই কাটে, তবুও নিজ দেশের শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বরত ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি-ডাকাতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং ক্যাম্পের মাঝি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঈদ নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?