ঈদের আমেজ দেশে ও প্রবাসে
প্রবাসে ও দেশে ঈদের আমেজের ভেতর আকাশ পাতাল পার্থক্য। সেই অভিজ্ঞতা প্রথম হয়েছিলো নিউইয়র্কে। ১৯৯৭ সালে জানুয়ারিতে এসেছিলাম স্প্রিং সেমিস্টারে লঙ আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে মাস্টার্স করতে। কয়েক বন্ধু মিলে বাসা নিয়েছিলাম ব্রুকলিনের ডাহিল রোডে। পরের মাসেই ছিলো ঈদুল ফিতর। ঈদের জামাত হলো চার্চ-ম্যাগডোনাল্ড এভিনিউর ওপর। বিশাল বড় রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। রাস্তার ওপর নীল রঙের পলিথিন বিছানো। বরফ শীতল রাস্তা। তবুও নামাজ পড়তে পেরে ভালো লেগেছিলো। এটা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। পুরো ব্লক মানুষে ভরে গিয়েছিলো। রাস্তার দু’পাশে বাংলাদেশিদের গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট ছিলো। বেশ কয়েকবছর পর দেশে এলাম। যশোরের বাড়িতে! ঈদটাও অনেক বছর পর বাড়িতে করা! সকালে নামাজ পড়তে গেলাম কারবালা মসজিদে। আব্বা বেঁচে থাকতে আমাদের নিয়ে যেতো সাথে করে। যশোর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়তাম একসাথে। সকালে উঠে হৈ হুল্লোড় করে গোসল করা। নতুন জামা পড়া। আব্বার সাথে সকাল সকাল সামনে এসে বসতাম ঈদের মাঠে। বাসায় ফিরে খেতাম মায়ের হাতের রান্না। নানা রকম সেমাই, পোলাও ও মাংস। সেই ছোটবেলার আনন্দটা ছিল অন্যরকম। ঈদের দিন শেষ হয়ে
প্রবাসে ও দেশে ঈদের আমেজের ভেতর আকাশ পাতাল পার্থক্য। সেই অভিজ্ঞতা প্রথম হয়েছিলো নিউইয়র্কে। ১৯৯৭ সালে জানুয়ারিতে এসেছিলাম স্প্রিং সেমিস্টারে লঙ আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে মাস্টার্স করতে। কয়েক বন্ধু মিলে বাসা নিয়েছিলাম ব্রুকলিনের ডাহিল রোডে। পরের মাসেই ছিলো ঈদুল ফিতর। ঈদের জামাত হলো চার্চ-ম্যাগডোনাল্ড এভিনিউর ওপর। বিশাল বড় রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। রাস্তার ওপর নীল রঙের পলিথিন বিছানো। বরফ শীতল রাস্তা। তবুও নামাজ পড়তে পেরে ভালো লেগেছিলো। এটা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। পুরো ব্লক মানুষে ভরে গিয়েছিলো। রাস্তার দু’পাশে বাংলাদেশিদের গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট ছিলো।
বেশ কয়েকবছর পর দেশে এলাম। যশোরের বাড়িতে! ঈদটাও অনেক বছর পর বাড়িতে করা!
সকালে নামাজ পড়তে গেলাম কারবালা মসজিদে। আব্বা বেঁচে থাকতে আমাদের নিয়ে যেতো সাথে করে। যশোর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়তাম একসাথে। সকালে উঠে হৈ হুল্লোড় করে গোসল করা। নতুন জামা পড়া। আব্বার সাথে সকাল সকাল সামনে এসে বসতাম ঈদের মাঠে। বাসায় ফিরে খেতাম মায়ের হাতের রান্না। নানা রকম সেমাই, পোলাও ও মাংস। সেই ছোটবেলার আনন্দটা ছিল অন্যরকম। ঈদের দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে খুব মন খারাপ হয়ে যেত। ভাবতাম প্রতিদিন যতো হতো ঈদের দিন। সেবার প্রথম আব্বাকে ছাড়া ঈদ। ভাইদের সাথে করে বের হলাম, একটু দেরী হয়ে গেল। নামাজ শুরু হয়ে গেছে। ভেতরে বাইরে কোথাও জায়গা নেই। কিছুক্ষণ আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। খালি ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে গেলাম। বৃষ্টি ভেজা কাদা মাখা ঘাসের ওপর বসে পড়লাম। প্যান্ট কাদা-পানিতে ভিজে একাকার। কপাল ছোঁয়ালাম কাদামাটিতে। কেমন একটা অপার্থিব অনুভূতিতে মন কেঁদে গেল। পাশের কবরস্থানে আব্বা শুয়ে আছে। সেই মাটি আমার শরীর ছুঁয়ে আছে! ভেজা। নিবিড় স্পর্শ! এক ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে নামাজ শেষ করলাম!
ফ্লোরিডাতে এলাম ২০০২-এ। একটা ছোট্ট সুন্দর গোছানো শহর। রাস্তায় ভিড় নেই। বাসা ভাড়াও সহনীয়। এখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা কম হলে ছিলো ভীষণ আন্তরিক। এখানে আছে একটা মসজিদ। এই মসজিদটাকে কেন্দ্র করে একাত্মা হয়ে আছে মুসলিম সম্প্রদায়। নব্বইয়ের দিকে যারা এসেছিলো এই শহরে তাদের হাতে শুরু এই মসজিদ। আগে এটা চার্চ ছিলো। কিনে নিয়ে মসজিদে রূপান্তরিত করা। আশেপাশে অনেক জমি কিনেছে। বড় পরিকল্পনা তাদের হাতে। ইসলামী স্কুল, ইন্ডোর খেলার জায়গা, লাইব্রেরি ও বড় আকারের মসজিদের পরিকল্পনা আছে। মসজিদে শিশু কিশোরদের জন্য কোরআন শিক্ষার হয়, বড়দের জন্যও রয়েছে কোরআন শিক্ষার নিয়মিত আয়োজন। রোজার মাস পালন হয় উৎসবের আমেজে। আগে দু’জন হাফেজ আসতো কানাডা বা ইংল্যান্ড থেকে। এখন আমেরিকাতে পড়াশোনা সম্পন্ন করা হাফেজ তারাবি নামাজে ইমামাতি করে। ইফতার হয় খেজুর ও পানি দিয়ে। মাগরিবের নামাজের পর পরিবেশিত হয় রাতের খাবার। মূল মসজিদের পিছনে আরেক বিল্ডিং আছে। এই বিল্ডিংটা মহিলাদের নামাজ ও শিশুদের ক্লাসের জন্য সংরক্ষিত।
চেষ্টা করা হয় ঈদের দিনটা উৎসব মুখর করা। দুটো জামাত হয় ঈদের। স্বেচ্ছাসেবকরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। মসজিদের পার্কিং এলাকা ভরে যায়। পাশে দুটো চার্চ আছে। তারা অনুমতি দিয়ে রেখেছে তার জায়গায় পার্কিং করার। মসজিদও মানুষে ভরে। ঈদের দিন শিশু কিশোরদের কাছে আনন্দময় করে তোলার জন্য অনেক কিছু করা হয়। সকালে নাস্তার আয়োজন থাকে। তাদের জন্য থাকে উপহার। আনা বাউন্স হাউস, আয়োজন করা হয় খেলাধুলার। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু কিশোররা মেতে ওঠে আনন্দে। ঈদের সুখকর অভিজ্ঞতা ও মসজিদমুখী করার প্রচেষ্টায় কোন ক্রুটি রাখা হয় না। এর পর আয়োজন করা হয় ঈদ ডিনারের।
What's Your Reaction?