ঈদ বাজারে জমজমাট গরুর সজ্জা বিক্রি
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে হাটগুলোতে এবার শুধু কোরবানির পশু কেনাবেচাই নয়, জমে উঠতে শুরু করেছে গরুর সাজসজ্জার নতুন বাজারও। রঙিন মালা, ঘণ্টা, কাপড়, এলইডি লাইট থেকে শুরু করে থিমভিত্তিক ডেকোরেশন সব মিলিয়ে কোরবানির গরুকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা বাড়ছে দ্রুত।অনলাইনভিত্তিক গরু বিক্রি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রতিযোগিতায় ‘কাউ অর্নামেন্টস’ এখন শুধু শখ নয়, পরিণত হয়েছে নতুন এক মৌসুমি ব্যবসা ও উৎসব সংস্কৃতিতে। চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা, ভাটিয়ারী, বিবিরহাট, অক্সিজেন, কর্ণফুলী, আনোয়ারা, পটিয়া ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে গরুর অর্নামেন্টস নিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান বসেছে। কোথাও শুধু গলার ঘণ্টা ও ফিতা, আবার কোথাও পুরো ডেকোরেশন সেট বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা দোকানের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন রঙিন মালা, কাপড়ের ঝালর, ডিজিটাল লাইট ও বাহারি অলংকার। হাটে আসা অনেক ক্রেতা গরু কেনার পাশাপাশি সাজসজ্জার সামগ্রীও কিনছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বেশি। তারা গরুর গলায় মালা পরানো, শিংয়ে রঙ লাগানো কিংবা রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানোর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আরও পড়ুনচট্টগ্রামে সংকট নেই কোরবানির পশুর, দা
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে হাটগুলোতে এবার শুধু কোরবানির পশু কেনাবেচাই নয়, জমে উঠতে শুরু করেছে গরুর সাজসজ্জার নতুন বাজারও। রঙিন মালা, ঘণ্টা, কাপড়, এলইডি লাইট থেকে শুরু করে থিমভিত্তিক ডেকোরেশন সব মিলিয়ে কোরবানির গরুকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা বাড়ছে দ্রুত।অনলাইনভিত্তিক গরু বিক্রি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রতিযোগিতায় ‘কাউ অর্নামেন্টস’ এখন শুধু শখ নয়, পরিণত হয়েছে নতুন এক মৌসুমি ব্যবসা ও উৎসব সংস্কৃতিতে।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা, ভাটিয়ারী, বিবিরহাট, অক্সিজেন, কর্ণফুলী, আনোয়ারা, পটিয়া ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে গরুর অর্নামেন্টস নিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান বসেছে। কোথাও শুধু গলার ঘণ্টা ও ফিতা, আবার কোথাও পুরো ডেকোরেশন সেট বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা দোকানের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন রঙিন মালা, কাপড়ের ঝালর, ডিজিটাল লাইট ও বাহারি অলংকার।
হাটে আসা অনেক ক্রেতা গরু কেনার পাশাপাশি সাজসজ্জার সামগ্রীও কিনছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বেশি। তারা গরুর গলায় মালা পরানো, শিংয়ে রঙ লাগানো কিংবা রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানোর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে সংকট নেই কোরবানির পশুর, দাম আয়ত্তে থাকার আশা
সীমান্তে কড়াকড়ি, হাটে নেই ভারতীয় গরু
কোরবানির পশুতে স্বনির্ভরতা: বদলে যাওয়া অর্থনীতির গল্প
নগরের কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অর্নামেন্টস ব্যবসায়ী ‘কাউ অর্নামেন্টস শপ- Cow Ornaments Shop’- এর মালিক তানজির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আগে মানুষ শুধু গরু কিনেই বাড়ি নিয়ে যেতেন। এখন অনেকে গরুকে সুন্দরভাবে সাজাতে চান। কেউ সাধারণ ফিতা নিচ্ছেন, আবার কেউ পুরো থিমভিত্তিক সাজসজ্জা করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার এসবের বিক্রি অনেক বেশি।
তিনি বলেন, বর্তমানে গরুর অর্নামেন্টস শুধু শখের বিষয় নয়, এটি ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিণত হয়েছে। অনলাইনে গরু বিক্রির প্রতিযোগিতা বাড়ায় খামারিরা এখন গরুকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চান। সুন্দরভাবে সাজানো গরুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রেতাদের নজর কাড়ে।
খামারি নুরুল আলম সওদাগর জাগো নিউজকে বলেন, এখন ফেসবুক লাইভ বা ভিডিও দেখেও গরু বিক্রি হচ্ছে। মানুষ প্রথমে গরুর ছবি দেখে আগ্রহী হয়। তাই আমরা গরুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সাজাইও। এতে গরু দেখতে ভালো লাগে, আবার ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে যোগাযোগ করেন।
মাসুদ ফরহান নামের এক ক্রেতা জাগো নিউজকে বলেন, ডিজিটাল সংস্কৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এই বাজার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী আলাদা ফেসবুক পেজ খুলে গরু বিক্রি করছেন। সেখানে সাজানো গরুর ভিডিও ও ছবি বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফলে সাজসজ্জা এখন এক ধরনের বিপণন কৌশলে পরিণত হয়েছে।
শুধু ব্যবসায়িক কারণ নয়, সামাজিক মর্যাদা ও প্রদর্শনের প্রবণতাও এতে যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন শহরের অনেক ক্রেতা। অনেক পরিবার কোরবানির গরুকে ঈদের কয়েকদিন আগে বাড়িতে নিয়ে এসে বিশেষ যত্ন নেয়। শিশুরা গরুর সঙ্গে সময় কাটায়, ছবি তোলে, সাজায়। শহুরে জীবনে এটি এখন এক ধরনের উৎসব সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছে।
তবে এ প্রবণতার সমালোচনাও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, কোরবানির ধর্মীয় চেতনার চেয়ে বাহ্যিক চাকচিক্যে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর সাজসজ্জা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়াচ্ছে।
নগরের মনিরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, অনেকে এখন গরুর চেয়ে সাজসজ্জায় বেশি টাকা খরচ করছেন। এটি অনেকটা সামাজিক প্রতিযোগিতার মতো হয়ে গেছে। তবে সীমার মধ্যে থাকলে সমস্যা নেই।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা গরুর সাজসজ্জায় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, ক্ষতিকর রাসায়নিক রং, অতিরিক্ত অলংকার কিংবা ভারী সাজসজ্জা পশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের রং পশুর চামড়ায় অ্যালার্জি বা সংক্রমণ তৈরি করতে পারে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের প্রফেসর এ এস এম গোলাম কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, পশুকে সাজানো যেতে পারে, তবে সেটি যেন নিরাপদ হয়। অনেক সময় এলইডি লাইট, উচ্চ শব্দের ঘণ্টা বা রাসায়নিক রং পশুর আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পশুর স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ ও মানবিকতা। তাই সাজসজ্জা যেন অতিরিক্ত প্রদর্শনের অংশ না হয়ে যায়, সে বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে এই মৌসুমি বাজার অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ ব্যবসায়ী ঘরে বসেই গরুর অর্নামেন্টস তৈরি ও বিক্রি করছেন। কেউ কাপড় ও পুঁতি দিয়ে হাতে তৈরি মালা বানাচ্ছেন, কেউ আবার অনলাইনে কাস্টমাইজড অর্ডার নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন
পশুর হাটে জাল টাকা-ছিনতাই ঠেকাতে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা
কোরবানির হাটে গান নয়, বাজুক তাকবির: শায়খ আহমাদুল্লাহ
গরুর হাটে ট্রাম্প সাহেব!
নগরের নারী উদ্যোক্তা সালমা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ঈদ কেন্দ্র করে আমরা কয়েক মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করি। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে গরুর মালা, ফিতা ও সাজসজ্জারসামগ্রী তৈরি করি। এবার চাহিদা অনেক বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট সাজসজ্জারসামগ্রী ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া গেলেও বড় ডেকোরেশন সেটের দাম ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেউ শুধু গলার মালা কিনছেন, আবার কেউ পুরো গরুর জন্য আলাদা থিম সাজাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক গরু বিক্রি ও ডিজিটাল প্রচারণা যত বাড়বে, ততই গরুর অর্নামেন্টস ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটবে। তবে এর সঙ্গে পশুর কল্যাণ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক ভারসাম্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
What's Your Reaction?