‘ঈদ শেষে ঢাকা ফিরতে মন চায় না, কিন্তু কর্মের কারণে আসতেই হয়’

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে ঢাকার মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ফিরছেন যাত্রীরা। ফিরতি যাত্রায় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন তারা। রোববার (৩১ মে) সকাল নয়টায় মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের যাত্রীরা বাসে করে ওই টার্মিনালে নামছেন। তবে টার্মিনালে পৌঁছানোর আগে মহাখালী কাঁচাবাজার ও কলেরা গেটেও যাত্রীদের বাস থেকে নামতে দেখা গেছে। অনেকের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন। হাতে গ্রাম থেকে আনা কোরবানির পশুর মাংস, বাজার-সদাই ও নানান জিনিসপত্রের ব্যাগ।   সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যাত্রী নিয়ে নিয়ে আসে ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস। এ বাসের যাত্রী ছিলের আবুল কালাম। তার সঙ্গে দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী ছিলেন। জাগো নিউজকে আবুল কালাম বলেন, ঈদের আগে ২৫ মে বাড়ি যাওয়ার সময় মহাখালী বাস টার্মিনালে বাস সংকট ছিল। সড়কের অনেক জায়গায় ছিল যানজটের ভোগান্তি। তবে গ্রামে সবার সঙ্গে ঈদ করতে পেরে ভালো লেগেছে। আর ফেরার সময় রাস্তায় যানজট ছিল না। ঢাকায় এসে

‘ঈদ শেষে ঢাকা ফিরতে মন চায় না, কিন্তু কর্মের কারণে আসতেই হয়’

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে ঢাকার মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ফিরছেন যাত্রীরা। ফিরতি যাত্রায় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৩১ মে) সকাল নয়টায় মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের যাত্রীরা বাসে করে ওই টার্মিনালে নামছেন। তবে টার্মিনালে পৌঁছানোর আগে মহাখালী কাঁচাবাজার ও কলেরা গেটেও যাত্রীদের বাস থেকে নামতে দেখা গেছে। অনেকের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন। হাতে গ্রাম থেকে আনা কোরবানির পশুর মাংস, বাজার-সদাই ও নানান জিনিসপত্রের ব্যাগ।  
 
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যাত্রী নিয়ে নিয়ে আসে ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস। এ বাসের যাত্রী ছিলের আবুল কালাম। তার সঙ্গে দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী ছিলেন। জাগো নিউজকে আবুল কালাম বলেন, ঈদের আগে ২৫ মে বাড়ি যাওয়ার সময় মহাখালী বাস টার্মিনালে বাস সংকট ছিল। সড়কের অনেক জায়গায় ছিল যানজটের ভোগান্তি। তবে গ্রামে সবার সঙ্গে ঈদ করতে পেরে ভালো লেগেছে। আর ফেরার সময় রাস্তায় যানজট ছিল না। ঢাকায় এসে সড়ক ফাঁকা দেখছি। আগামীকাল সোমবার অফিসে কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
 
শেরপুর থেকে সোনার বাংলা পরিবহনে ঢাকা ফেরেন সারওয়ার আলম। তিনি বাস থেকে নামেন মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী, সন্তানও বাস থেকে নামেন।

আরও পড়ুন
ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ, ঢাকায় ফিরছে মানুষ 
ছুটি শেষে ফিরছে মানুষ, দৌল‌তদিয়া ফে‌রিঘাটে যাত্রীদের চাপ 

জাগো নিউজকে সারওয়ার আলম জানান, তার বাবা-মা গ্রামে থাকেন। তিনি মিরপুর-১০ এ একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বাসার পাশেই এক অফিসে চাকরি করেন। প্রতিবছর গ্রামে গিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন।

তিনি বলেন, প্রতিবারই ঈদ শেষে ঢাকা ফিরতে মন চায় না। সারাক্ষণ অস্থির লাগে। মনে হয়, গ্রামে যদি মা-বাবার সঙ্গে সব সময় থাকা যেত; কতই না ভালো লাগতো। কিন্তু কর্মের কারণে ঢাকা ছুটে আসতে হয়।

ঈদের চতুর্থদিন আজ রোববার সকালেও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এক এক করে বাস টার্মিনাল থেকে বের হচ্ছে। অধিকাংশ বাসের আসন যাত্রী পরিপূর্ণ। আবার অনেক বাস সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে।
 
সকাল সাড়ে নয়টায় মহাখালী টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে বের হয় রফরফ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেডের একটি বাস। এ বাসটি ঢাকা-নেত্রকোনা-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন করে।
 
রফরফ বাসের চালক মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর অঞ্চলের একটি বড় অংশের মানুষের নানান কারণে ঈদের পর বাড়ি যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া অনেকে ঈদের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেত্রকোনা বেড়াতে যায়। ফলে ঈদের আগে এবং পরে সমান চাপ থাকে মহাখালী বাস টার্মিনালে।
 
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী জোবায়ের মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, এবার ঈদযাত্রা অত্যন্ত নির্বিঘ্ন হয়েছে। ঈদের আগেও মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। এখনো যাত্রীরা নিরাপদে ঢাকায় ফিরতে পারছেন। সড়কের কোথাও তেমন কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।  
 
এমএমএ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow