উইন্ডসর ক্যাসেলে প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে এমবিই পেলেন বাংলাদেশি আবু তাহের

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজকীয় আয়োজনে ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই)’ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট হিসাবরক্ষক, সাহিত্যিক ও সমাজসেবক আবু তাহের। বুধবার (১৩ মে) ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স উইলিয়াম তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা তুলে দেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত সাফল্য, সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত করে। রাজকীয় পরিবেশে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবু তাহেরের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিতা তাহের, মেয়ে অনিকা তাহের ও ছেলে তামিম তাহের। পরিবারের উপস্থিতিতে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও স্মরণীয়। সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আবু তাহের বলেন, ‘এমবিই খেতাব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমাকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি এ অর্জন পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও কমিউনিটি

উইন্ডসর ক্যাসেলে প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে এমবিই পেলেন বাংলাদেশি আবু তাহের

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজকীয় আয়োজনে ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই)’ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট হিসাবরক্ষক, সাহিত্যিক ও সমাজসেবক আবু তাহের।

বুধবার (১৩ মে) ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স উইলিয়াম তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা তুলে দেন।

দীর্ঘদিনের পেশাগত সাফল্য, সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত করে।

রাজকীয় পরিবেশে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবু তাহেরের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিতা তাহের, মেয়ে অনিকা তাহের ও ছেলে তামিম তাহের। পরিবারের উপস্থিতিতে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও স্মরণীয়।

সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আবু তাহের বলেন, ‘এমবিই খেতাব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমাকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি এ অর্জন পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও কমিউনিটির মানুষদের উৎসর্গ করছি।’

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবু তাহের ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে দক্ষ ও পেশাদার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে প্রতিষ্ঠা করেন মাহি অ্যান্ড কো সার্টিফায়েড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে আর্থিক পরামর্শ এবং হিসাবরক্ষণ সেবা দিয়ে সুপরিচিতি লাভ করেছে।

তিনি ইনস্টিটিউট অব সার্টিফায়েড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টসের ফেলো সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়ও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংহতি লিটারারি সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি থেকে বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির মাধ্যমে নিয়মিত কবিতা উৎসব, সাহিত্যসভা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও প্রশংসিত আবু তাহের। মাসুমা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন টি-ফাইভ টেইলারিং ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন তিনি।

প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব আয়োজনেও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। বর্তমানে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘হেভেন কেয়ার হোম’ নামের নতুন একটি প্রকল্প নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদান রেখে চলা আবু তাহের-এর এই অর্জনকে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গর্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow