এমপি মোবাশ্বেরের স্ট্যাটাস ‘আমার ফাঁসি চাই’

কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি Mobasher Bhuiyan MP-তে ‘আমার ফাঁসি চাই’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন তিনি। রোববার (১০ মে) দুপুরে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। পোস্টে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া লেখেন, ‘এই নিউজ মনোযোগ দিয়ে পড়েন, কোন শব্দের জন্য আমার ফাঁসি হওয়া উচিত বলে মনে করেন? এই বৈঠকের উদ্দেশ্য কী ছিল? আমি যা বলেছি, সব বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। আমার নির্বাচনী এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করব। সঠিক গণমাধ্যমকর্মী চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত করব এবং হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করব।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। ওই সভায় দেওয়া তার কিছু বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা

এমপি মোবাশ্বেরের স্ট্যাটাস ‘আমার ফাঁসি চাই’
কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি Mobasher Bhuiyan MP-তে ‘আমার ফাঁসি চাই’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন তিনি। রোববার (১০ মে) দুপুরে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। পোস্টে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া লেখেন, ‘এই নিউজ মনোযোগ দিয়ে পড়েন, কোন শব্দের জন্য আমার ফাঁসি হওয়া উচিত বলে মনে করেন? এই বৈঠকের উদ্দেশ্য কী ছিল? আমি যা বলেছি, সব বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। আমার নির্বাচনী এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করব। সঠিক গণমাধ্যমকর্মী চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত করব এবং হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করব।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। ওই সভায় দেওয়া তার কিছু বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হইনি। গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে দেখিনি নাঙ্গলকোট নিয়ে একটি নিউজ করতে। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে, আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে।’ এ সময় তিনি নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে উদ্দেশ করে একাধিকবার ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। বিএনপি নেতা আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে তার একটি ছবি দেখিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, বক্তব্যের সময় কাউকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং কেউ কথা বলতে চাইলে এমপি ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তিনি উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককে ইঙ্গিত করে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা সামনে আসবেন, আমার দরজা খোলা। যারা আসবেন না, আসসালামু আলাইকুম।’ সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘এখানে একজন সাংবাদিকও কিছু লিখেনি। লিখলে নাঙ্গলকোটের বেহাল দশা থাকত না, আরও উন্নত হতো।’ একপর্যায়ে তিনি প্রেস ক্লাব সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। আপনার বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমি ডকুমেন্ট নিয়ে কথা বলি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, “আমি চেয়েছি নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভক্ত তিন সাংবাদিক সংগঠনকে একত্রিত করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে। পেশাদার সাংবাদিকদের একটি কমিটি গঠন করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই ক্ষোভ থেকেই ‘আমার ফাঁসি চাই’ লিখেছি।” সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যাকে দোসর মনে করেছি, তাকেই দোসর বলেছি। এতে সমস্যা কোথায়?’ এদিকে এমপির এমন বক্তব্য ও ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাংবাদিক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ গণমাধ্যমের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ বলে মন্তব্য করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow