উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার পর একটি মহল অস্থিরতা সৃষ্টি করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় বিএনপির আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে যারা আন্দোলন ও অবরোধ করছে, তাদের তখন মাঠে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা কৃষক, খাল খনন, গ্রামের শিশুদের শিক্ষা কিংবা কৃষক কার্ড নিয়ে কথা বলে না। তাদের উদ্দেশ্য শুধু অরাজকতা সৃষ্টি করা।” তারেক রহমান বলেন, ধরার খাল এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট ও অকার্যকর থাকায় কৃষকরা সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেও এই খাল খনন কার্যক্রমে অংশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার পর একটি মহল অস্থিরতা সৃষ্টি করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় বিএনপির আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে যারা আন্দোলন ও অবরোধ করছে, তাদের তখন মাঠে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা কৃষক, খাল খনন, গ্রামের শিশুদের শিক্ষা কিংবা কৃষক কার্ড নিয়ে কথা বলে না। তাদের উদ্দেশ্য শুধু অরাজকতা সৃষ্টি করা।”
তারেক রহমান বলেন, ধরার খাল এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট ও অকার্যকর থাকায় কৃষকরা সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেও এই খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। প্রবীণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাদের বয়স ষাটের বেশি, তাদের অনেকেরই সেই স্মৃতি এখনও মনে থাকার কথা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রয়োজন রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপি সরকার এসব উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। খাল খনন হলে কৃষক উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।”
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে পরিবারভিত্তিক “ফ্যামিলি কার্ড” কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সরাসরি মায়েদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দেশের কৃষকদের জন্য “কৃষক কার্ড” চালুর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি জানান, দেশের প্রায় দুই কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার শুধু কৃষি নয়, শিক্ষাখাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য নতুন স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষায়, গ্রামের ছোট ছোট শিশুরা যেন সুন্দর পোশাক পরে স্কুলে যেতে পারে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় ব্যক্তিরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
দেশের তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ-তরুণী থাকলেও অনেকের কর্মসংস্থান নেই। এজন্য সরকার কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নতুন টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও তিনি জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনাকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “যেমন একটি সংসারে নানা সমস্যা থাকে, তেমনি একটি দেশেও নানা সমস্যা থাকে। একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, ২০ কোটি মানুষের এই বিশাল রাষ্ট্রে ধাপে ধাপে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা করতে চায়।
সম্প্রতি রাজধানীতে সংঘটিত একটি শিশুহত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “রাস্তা অবরোধ, যানবাহন বন্ধ, আগুন ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে চাইছে। তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করছে।”
তিনি আরও বলেন, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। খাল পুনঃখনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-খতিবদের সম্মানী, এমনকি শিশুদের স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। যারা মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দেশের মানুষ উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
খাল পুনঃখনন উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রিশাল আসনের এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?