উৎসব বা অনুষ্ঠান হলেই সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া হয় কেন

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা ছোটখাটো ঝগড়া স্বাভাবিক। ছোট বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য হতে পারে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, কোনো দাওয়াত বা পার্টিতে যাওয়ার ঠিক আগেই সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া বেশি হয়। উৎসব বা অনুষ্ঠানের আগে, যখন আনন্দ-উৎসবের মেজাজ থাকা উচিত, ঠিক সেই সময় বারবার মনোমালিন্য কেন হয়-কোনো দিন ভেবেছেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন উৎসব বা অনুষ্ঠান আগে ঝগড়া হয়-   অতিরিক্ত ব্যস্ততা ও চাপউৎসব বা পার্টির সময়ে বাড়ি পরিষ্কার করা, সাজানো, রান্না, অতিথি আপ্যায়ন, শপিং এবং উপহার কেনা নিয়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। ক্লান্তি ও মানসিক চাপ একে অপরের প্রতি সহনশীলতা কমিয়ে দেয়। ছোট ছোট চাওয়াগুলো পূর্ণ না হলে তা বড় ঝগড়ার আকার নেয়। আর্থিক চাপউপহার কিনতে বা সাজসজ্জায় খরচ বাড়লে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কেউ চাইতে পারে বাজেট মেনে চলতে, আবার কেউ বেশি খরচ করতে চায়। এর ফলে দু’জনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয় এবং অশান্তি সৃষ্টি হয়। সামাজিক প্রত্যাশার চাপউৎসবের সময়ে পারফেক্ট অনুষ্ঠান আয়োজন, সুন্দর করে ঘর সাজানো, পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার চাপও সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। একত্রে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং দৈনন্দিন রুটিন ভাঙা নতুন অস্থ

উৎসব বা অনুষ্ঠান হলেই সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া হয় কেন

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা ছোটখাটো ঝগড়া স্বাভাবিক। ছোট বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য হতে পারে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, কোনো দাওয়াত বা পার্টিতে যাওয়ার ঠিক আগেই সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া বেশি হয়। উৎসব বা অনুষ্ঠানের আগে, যখন আনন্দ-উৎসবের মেজাজ থাকা উচিত, ঠিক সেই সময় বারবার মনোমালিন্য কেন হয়-কোনো দিন ভেবেছেন?

আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন উৎসব বা অনুষ্ঠান আগে ঝগড়া হয়-  

অতিরিক্ত ব্যস্ততা ও চাপ
উৎসব বা পার্টির সময়ে বাড়ি পরিষ্কার করা, সাজানো, রান্না, অতিথি আপ্যায়ন, শপিং এবং উপহার কেনা নিয়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। ক্লান্তি ও মানসিক চাপ একে অপরের প্রতি সহনশীলতা কমিয়ে দেয়। ছোট ছোট চাওয়াগুলো পূর্ণ না হলে তা বড় ঝগড়ার আকার নেয়।

আর্থিক চাপ
উপহার কিনতে বা সাজসজ্জায় খরচ বাড়লে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কেউ চাইতে পারে বাজেট মেনে চলতে, আবার কেউ বেশি খরচ করতে চায়। এর ফলে দু’জনের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয় এবং অশান্তি সৃষ্টি হয়।

সামাজিক প্রত্যাশার চাপ
উৎসবের সময়ে পারফেক্ট অনুষ্ঠান আয়োজন, সুন্দর করে ঘর সাজানো, পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার চাপও সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। একত্রে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং দৈনন্দিন রুটিন ভাঙা নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এছাড়াও আগে অমীমাংসিত বিষয়গুলোও ফের সামনে চলে আসে।

cfew

ঝগড়া হলে যা করবেন-

১. খোলাখুলি যোগাযোগ করুন
উৎসবের পরিকল্পনা শুরু হওয়ার আগে একে-অন্যের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। বাজেট, শিডিউল, অতিথি তালিকা ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলুন। প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে জানানো ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে।

২. দায়িত্ব ভাগ করুন
সব কাজ একজনে না করে দু’জনে ভাগ করুন। রান্না, সাজানো-গুছানো, অতিথি আপ্যায়ন—দায়িত্ব সমানভাবে নিলে চাপ কিছুটা কমে এবং ঝগড়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

৩. বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা উদাহরণকে বাস্তব মনে না করে নিজেকে চাপ দেবেন না। প্রত্যাশা কমিয়ে বাস্তব সময় উপভোগ করা শিখুন।

৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
উৎসবের সময়ও পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন। ক্লান্তি, ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপ দ্রুত ঝগড়াকে বাড়িয়ে দেয়।

৫. ছোট বিরতি নিন
যদি কোনো বিষয় উত্তেজনা বাড়ায়, তখন খোলাখুলি বিরতি নিন। আগে শান্ত হয়ে পরে আলোচনা করুন। একটু সময় নিলে সমস্যা সহজে ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব।

উৎসব বা পার্টির আগে দাম্পত্য ঝগড়া স্বাভাবিক হলেও সচেতন থাকলেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। খোলাখুলি আলোচনা, দায়িত্ব ভাগ, বাস্তব প্রত্যাশা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ছোট বিরতি-এই সহজ পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে সম্পর্ক সুস্থ থাকে। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করুন, কিন্তু ঝগড়াকে বড় হতে দেবেন না।

সূত্র: আওয়ার রিলেশনশিপ, দ্য থেরাপি হাব, মিডিয়াম ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
হাতেনাতে সঙ্গীর চিটিং ধরার ভাইরাল উপায় 
সঙ্গীর জন্মদিন ভুলে গেছেন? শেষ মুহূর্তে মন জয় করার উপায় 

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow