ঋণ পরিশোধের সময় স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত দান কি সুদ?
ইসলামে ঋণ পরিশোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত ও নৈতিক দায়িত্ব। অনেক সময় দেখা যায়, ঋণগ্রহীতা কৃতজ্ঞতা বা সৌজন্যবশত ঋণ পরিশোধের সময় মূল টাকার সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত অর্থ বা উপহার প্রদান করেন। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এ অতিরিক্ত প্রদান কি সুদের অন্তর্ভুক্ত, নাকি শরিয়তে তা বৈধ? এ বিষয়ে হাদিস ও ফকিহদের ব্যাখ্যা আমাদের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ঋণ গ্রহণ মূলত মানুষের প্রয়োজন পূরণের একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা। তাই যার ওপর ঋণ রয়েছে, তার উচিত যথাসময়ে তা পরিশোধের আন্তরিক চেষ্টা করা। অকারণে ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা, বারবার অজুহাত দেখানো বা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গড়িমসি করা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এটি নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্বে অবহেলা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বিলম্বকে জুলুম বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ, এতে ঋণদাতার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পান। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা একজন মানুষের সততা, আমানতদারি ও আল্লাহভীতির পরিচায়ক। পক্ষান্তরে, অযথা বিলম্ব সম্মানহানি, বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং অন্যের হক নষ্ট করার কারণ হতে পারে। তাই একজন সচেতন মুমিন সামর্থ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই
ইসলামে ঋণ পরিশোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত ও নৈতিক দায়িত্ব। অনেক সময় দেখা যায়, ঋণগ্রহীতা কৃতজ্ঞতা বা সৌজন্যবশত ঋণ পরিশোধের সময় মূল টাকার সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত অর্থ বা উপহার প্রদান করেন। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এ অতিরিক্ত প্রদান কি সুদের অন্তর্ভুক্ত, নাকি শরিয়তে তা বৈধ? এ বিষয়ে হাদিস ও ফকিহদের ব্যাখ্যা আমাদের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ঋণ গ্রহণ মূলত মানুষের প্রয়োজন পূরণের একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা। তাই যার ওপর ঋণ রয়েছে, তার উচিত যথাসময়ে তা পরিশোধের আন্তরিক চেষ্টা করা। অকারণে ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা, বারবার অজুহাত দেখানো বা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গড়িমসি করা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এটি নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্বে অবহেলা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বিলম্বকে জুলুম বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ, এতে ঋণদাতার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পান। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা একজন মানুষের সততা, আমানতদারি ও আল্লাহভীতির পরিচায়ক। পক্ষান্তরে, অযথা বিলম্ব সম্মানহানি, বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং অন্যের হক নষ্ট করার কারণ হতে পারে। তাই একজন সচেতন মুমিন সামর্থ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই ঋণ পরিশোধে সচেষ্ট থাকেন।
এ প্রসঙ্গে হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী কারিম (সা.)-এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা আদায় করার সময় আমাকে পাওনার চেয়ে কিছু বেশি প্রদান করেন।’ (সহিহ বোখারি: ৪৩০; সুনানে আবু দাউদ: ৩৩১৪)
হাদিসটির ব্যাখ্যায় রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতা যদি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায়, কোনো পূর্বশর্ত বা চুক্তি ছাড়াই ঋণদাতাকে অতিরিক্ত কিছু প্রদান করেন, তবে তা বৈধ; বরং এটি মুস্তাহাব এবং উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। কারণ, এ অতিরিক্ত প্রদান সুদের উদ্দেশ্যে নয়; বরং কৃতজ্ঞতা, সৌজন্য ও ইহসানের বহিঃপ্রকাশ।
মাআরিফুল হাদিস-এ বলা হয়েছে, যেহেতু এ অতিরিক্ত প্রদান কোনো চুক্তি বা শর্তের ভিত্তিতে নয়, তাই এটি সুদ নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত একটি উত্তম আমল, যা সমাজে প্রচলন করা প্রশংসনীয়। (হাদিস: ১৭৬৯)
মাসআলার সারকথা
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা-এর পরিচালক মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজি বলেন, ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতা যদি স্বেচ্ছায় এবং কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই ঋণদাতাকে অতিরিক্ত অর্থ বা উপহার প্রদান করেন, তাহলে তা সুদ নয়; বরং ইহসান ও উত্তম চরিত্রের নিদর্শন। তবে শর্ত হলো, ঋণদাতা অতিরিক্ত কিছু দাবি করতে পারবেন না, এর জন্য কোনো শর্ত আরোপ করতে পারবেন না এবং ঋণ প্রদানের সময় অতিরিক্ত ফেরত দেওয়ার কোনো চুক্তিও থাকতে পারবে না। এ ধরনের শর্ত বা বাধ্যবাধকতা থাকলে সেটিই সুদের আওতায় পড়ে।
What's Your Reaction?